বাংলাদেশ

এক দফা দাবি: জাতীয়করণের লক্ষ্যে আজ অধিদপ্তর অভিমুখে ইবতেদায়ি শিক্ষকদের লংমার্চ

দেশের শিক্ষা খাতে চলমান আন্দোলনের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পাশাপাশি এবার জাতীয়করণের এক দফা দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছেন স্বাধীন ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ (সোমবার, ২৭ অক্টোবর) তারা মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর অভিমুখে লংমার্চ করছেন।

সকাল থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সারাদেশ থেকে আসা শত শত ইবতেদায়ি শিক্ষক জমায়েত হতে শুরু করেছেন। এখান থেকেই তাদের অধিদপ্তর অভিমুখে যাত্রা শুরু হওয়ার কথা।

কেন এই লংমার্চ? (মূল দাবি)

এই লংমার্চের পেছনে রয়েছে ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের বহু বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর বঞ্চনার ইতিহাস। তাদের দাবি অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং একটিই:

  • এক দফা দাবি: দেশের সকল রেজিস্টার্ড ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বাধীন ইবতেদায়ি মাদরাসাকে জাতীয়করণ করতে হবে।
  • লক্ষ্য: জাতীয়করণের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা।

শিক্ষক নেতারা বলছেন, তারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালনা করলেও যুগ যুগ ধরে চরম অবহেলা আর বৈষম্যের শিকার। বারবার আবেদন-নিবেদন করেও কোনো সরকারের আমলেই তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। তাই এবার দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

কর্মসূচির বিবরণ

আজকের লংমার্চটি ইবতেদায়ি শিক্ষকদের ঘোষিত ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ। এর আগে তারা একই দাবিতে “ছাতা মিছিল” ও “অবস্থান কর্মসূচি” পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আজকের লংমার্চটি মূলত মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং দাবি আদায়ে চাপ সৃষ্টির একটি বড় পদক্ষেপ।

  • স্থান: জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
  • সময়: সকাল থেকে শুরু।
  • অংশগ্রহণকারী: সারাদেশ থেকে আগত স্বাধীন ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকরা।

শিক্ষা খাতে বহুমুখী চাপ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণ ও বৈষম্য নিরসনের আন্দোলন যখন চলমান, ঠিক তখনই ইবতেদায়ি শিক্ষকদের এই জোরালো কর্মসূচি সরকারের ওপর নিঃসন্দেহে চাপ আরও বাড়াবে। এটি প্রমাণ করে, শিক্ষা খাতের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান বৈষম্যগুলো এখন আর শিক্ষকরা মুখ বুজে সহ্য করতে রাজি নন। তারা তাদের শ্রম ও মেধার যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান।

শেষ কথা

স্বাধীন ইবদায়ি মাদরাসা শিক্ষকরা জাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে শিক্ষার আলো দিচ্ছেন। তাদের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি সরকারের সহানুভূতিশীল দৃষ্টি দেওয়া এবং একটি সম্মানজনক সমাধান খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি। আজকের এই লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হোক এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ফলাফল আসুক—এটাই সকলের প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *