বাংলাদেশ

বগুড়ায় ছাত্রীদের ‘অশ্লীল’ মন্তব্যের অভিযোগ: শিক্ষককে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করলো অভিভাবকরা

শিক্ষাঙ্গনে আবারও এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ‘অশ্লীল’ মন্তব্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. রতন আলী

ঘটনার সূত্রপাত: কী অভিযোগ অভিভাবকদের?

অভিভাবকদের অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক মো. রতন আলী বেশ কিছুদিন ধরেই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের লক্ষ্য করে আপত্তিকর ও অশ্লীল মন্তব্য করে আসছিলেন। বিষয়টি ছাত্রীদের মাধ্যমে জানতে পেরে অভিভাবকরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন।

গতকাল (রবিবার, ২৬ অক্টোবর) কয়েকজন অভিভাবক এই অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের সাথে কথা বলতে বিদ্যালয়ে যান।

পরিস্থিতি যেভাবে উত্তপ্ত হলো

অভিভাবকদের দাবি, তারা যখন শিক্ষক রতন আলীর কাছে এই বিষয়ে জানতে চান এবং প্রতিবাদ করেন, তখন তিনি তাদের সাথে অসদাচরণ করেন। শিক্ষকের এই আচরণে অভিভাবকরা আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

এক পর্যায়ে, বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষক রতন আলীকে মারধর শুরু করেন। পরে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা তাকে শিবগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।

পুলিশের পদক্ষেপ

শিবগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে তাদের হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে উভয় পক্ষের (অভিভাবক ও শিক্ষক) বক্তব্য শুনছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেষ কথা

দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও শিক্ষকদের নৈতিকতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। অন্যদিকে, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শিক্ষককে মারধর করাও কোনো সমাধান নয়।

এখন প্রয়োজন একটি (নিরপেক্ষ) ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার আসল সত্য উদ্ঘাটন করা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যেমন কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, তেমনি যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন, তাদের বিষয়েও পুলিশের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারই পারে শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *