মধ্যরাতে সাভারে ড্যাফোডিল-সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ! বাস ভাঙচুর, আহত বেশ কয়েকজন
আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকা। এবার ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়ায় মধ্যরাতে সংঘর্ষে জড়িয়েছে দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এই সংঘর্ষ শুরু হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত চলে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসসহ অন্যান্য যানবাহনে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: মধ্যরাতের সংঘর্ষ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার মধ্যরাতের দিকে সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় ড্যাফোডিল ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
- সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া: উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
- বাস ভাঙচুর: সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে। সিটি ইউনিভার্সিটির বাসেও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
- আহত: এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের কারণ কী? (প্রাথমিক তথ্য)
যদিও সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে।
অভিযোগ উঠেছে, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির কয়েকজন শিক্ষার্থী সিটি ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে। এই ঘটনার জের ধরেই প্রথমে উত্তেজনা ও পরে তা полномасштабный (পূর্ণাঙ্গ) সংঘর্ষে রূপ নেয়। (তবে, এটি প্রাথমিক তথ্য এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে।)
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
সংঘর্ষের খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং পরিস্থিতি শান্ত করি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
শেষ কথা
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ধরনের সহিংস সংঘর্ষ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নষ্ট করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আশা করা হচ্ছে, উভয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনবে এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।