৪৮তম বিসিএস: ভাইভায় পাস করা সবাইকে নিয়োগের দাবিতে পিএসসির সামনে মানববন্ধন
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং দীর্ঘ। প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং সর্বশেষ মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চূড়ান্ত সুপারিশের জন্য অপেক্ষা করেন প্রার্থীরা। কিন্তু অনেক সময় ভাইভায় পাস করেও পদের সীমাবদ্ধতার কারণে কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার বা নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ পান না অনেকেই।
ঠিক এমনই এক পরিস্থিতিতে, ৪৮তম বিসিএস পরীক্ষায় ভাইভায় উত্তীর্ণ কিন্তু কোনো পদে সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীরা সকলকে নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। আজ (সোমবার) সকালে তারা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আগারগাঁও কার্যালয়ের সামনে একটি মানববন্ধন ও পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করেন।
মূল দাবি: ভাইভায় পাস করা মানেই নিয়োগ
আন্দোলনরত প্রার্থীদের মূল দাবি অত্যন্ত সুস্পষ্ট: যারা বিসিএস পরীক্ষার তিনটি ধাপ (প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা) সফলভাবে অতিক্রম করেছেন, তারা সকলেই নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য।
তাদের যুক্তি হলো:
- মেধার স্বীকৃতি: ভাইভা পর্যন্ত উত্তীর্ণ হওয়া প্রমাণ করে যে তারা দেশের মেধাবী সন্তানদের অংশ এবং সরকারি চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তারা অর্জন করেছেন।
- দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কষ্ট: একটি বিসিএস পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একজন প্রার্থীকে বছরের পর বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ভাইভায় পাস করার পরও চাকরি না পাওয়াটা তাদের জন্য চরম হতাশার।
- রাষ্ট্রের প্রয়োজন: জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন সরকার গঠিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। ভাইভায় উত্তীর্ণ এই মেধাবীদের নিয়োগ দিলে সেই চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হবে।
- সুপারনিউমারারি পদ: যদি শূন্য পদ না থাকে, তবে প্রয়োজনে সুপারনিউমারারি পদ (সংখ্যাতীত পদ) সৃষ্টি করে হলেও ভাইভায় পাস করা সকল প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হোক।
পূর্ববর্তী প্রচেষ্টা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি
সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা জানান, তারা তাদের এই যৌক্তিক দাবি নিয়ে এর আগেও পিএসসি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষের সাথে সাক্ষাতের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় তারা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
তারা হুঁশিয়ারি দেন, যদি তাদের এই দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
শেষ কথা
৪৮তম বিসিএস ভাইভায় উত্তীর্ণ কিন্তু সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীদের এই দাবিটি নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন বিসিএসের প্রার্থীরা একই ধরনের দাবি তুলেছিলেন। একটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে এসেও চাকরি না পাওয়ার হতাশা নিঃসন্দেহে কষ্টদায়ক। পিএসসি এবং সরকার এই মেধাবী প্রার্থীদের দাবিগুলো কীভাবে বিবেচনা করে এবং এর সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।