এমপিও

এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে কর্মচারী নিয়োগ: নীতিমালা কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ মাউশিকে

বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া NTRCA-এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ প্রতিষ্ঠান পর্যায়েই হয়ে থাকে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে এবার কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালককে (ডিজি) একটি চিঠি দিয়ে “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৪”-এর সংশ্লিষ্ট ধারা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

কেন এই নির্দেশনা? (প্রেক্ষাপট)

অভিযোগ রয়েছে, অনেক এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী (যেমন: অফিস সহকারী, নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আয়া ইত্যাদি) নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় না। অনেক সময় ম্যানেজিং কমিটি বা প্রতিষ্ঠান প্রধান নিজেদের ইচ্ছেমতো বা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে লোকবল নিয়োগ দেন, যা নিয়ে পরবর্তীতে নানা জটিলতা ও অভিযোগ ওঠে।

এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে এবং কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই কঠোর নির্দেশনা জারি করলো।

কোন ধারাটি বাস্তবায়নের নির্দেশ?

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে “জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৪”-এর অনুচ্ছেদ ১১.১৩ এর উপ-অনুচ্ছেদ (ঘ) কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এই উপ-অনুচ্ছেদে মূলত ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা আছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:

  • নিয়োগ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া।
  • নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নিয়মাবলী।
  • প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণ।
  • আবেদন গ্রহণ ও বাছাই প্রক্রিয়া।
  • নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি (যদি থাকে)।
  • চূড়ান্ত নির্বাচন ও নিয়োগপত্র ইস্যু করার নিয়ম।

মন্ত্রণালয় চায়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেন কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নীতিমালার প্রতিটি ধাপ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।

মাউশি’র করণীয় কী?

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা পাওয়ার পর এখন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-কে এটি বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মাউশি যা করতে পারে:

  1. সকল আঞ্চলিক পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার (DEO) এবং উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের কাছে এই নির্দেশনাটি পাঠিয়ে দেবে।
  2. মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া তদারকি করার নির্দেশ দেবে।
  3. কোনো প্রতিষ্ঠান নীতিমালা লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা (যেমন: MPO স্থগিত বা বাতিল) গ্রহণের সুপারিশ করবে।

শেষ কথা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি নিশ্চিত করবে যে, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক এবং নীতিমালা অনুযায়ী হচ্ছে। এর ফলে যোগ্য প্রার্থীরা নিয়োগ লাভের সুযোগ পাবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক কাজে দক্ষতা বাড়বে। প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটিগুলোকে এখন কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও নিয়মনিষ্ঠ হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *