জুলাই সনদ বাস্তবায়নই দেখাবে নতুন বাংলাদেশের পথ: বিশেষজ্ঞদের অভিমত
গত জুলাই মাসে দেশব্যাপী সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া ‘জুলাই সনদ’ নিছক কিছু দাবিনামা নয়, বরং এটি একটি নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা এমনটাই মনে করছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, এই সনদে উল্লিখিত প্রতিটি দফা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা-ই একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথ খুলে দেবে।
বিভিন্ন আলোচনা সভা ও মতামতে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে ধারণ করে এই সনদ। তাই এর বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ জাতীয় গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
‘জুলাই সনদ’ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
‘জুলাই সনদ’ মূলত ছাত্র-জনতার সেই গণজাগরণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, যা একটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য, অব্যবস্থাপনা আর বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছিল। এর মূল বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বৈষম্য বিলোপ: চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা: প্রশাসনিক ও বিচারিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।
- গণতান্ত্রিক অধিকার: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশের অধিকারসহ সকল নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত করা।
- অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার: একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই বিষয়গুলোই একটি আধুনিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্রের ভিত্তি। তাই সনদটিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
বাস্তবায়নই নতুন বাংলাদেশের পথ
আলোচকদের মতে, ‘নতুন বাংলাদেশ’ শুধু একটি কথার কথা নয়, এর জন্য প্রয়োজন નક્કર ( નક્কর – concrete) পদক্ষেপ। ‘জুলাই সনদ’ সেই পদক্ষেপগুলোর একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- সমস্যার মূলে আঘাত: সনদটি শুধু উপরিকাঠামোগত পরিবর্তন নয়, বরং সমস্যার মূল কারণগুলো (যেমন: বৈষম্য, বিচারহীনতা) চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানের কথা বলেছে।
- জনগণের আকাঙ্ক্ষা: এটি সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার একটি দলিল। এর বাস্তবায়ন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে।
- আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি: একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এই সনদের বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকার ও সংশ্লিষ্টদের করণীয়
বিশেষজ্ঞরা অন্তর্বর্তী সরকার এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ‘জুলাই সনদ’-কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা (Roadmap) তৈরি করে এবং তা কার্যকর করে। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সকল নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ।
শেষ কথা
‘জুলাই সনদ’ কোনো একক গোষ্ঠী বা দলের নয়, এটি একটি গণআন্দোলনের ফসল এবং জাতির ভবিষ্যৎ दिशा-निर्देश (দিকনির্দেশনা)। এর সফল বাস্তবায়নই পারে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করতে এবং বাংলাদেশকে একটি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে। তাই এই সনদের প্রতিটি অক্ষরকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই এখন সময়ের দাবি।