শিরোনাম: হিজাব নিয়ে টিজিংয়ের প্রতিবাদ: বোরকা পরে ক্লাস নিলেন রাবি অধ্যাপক!
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক অভিনব প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে। হিজাব পরিধান করায় ছাত্রীদের টিজিং বা কটূক্তির শিকার হওয়ার কথিত ঘটনার প্রতিবাদে অর্থনীতি বিভাগের একজন অধ্যাপক নিজেই বোরকা বা ইসলামি পোশাকে আচ্ছাদিত হয়ে ক্লাস নিয়েছেন। এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ মুহূর্তেই ক্যাম্পাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
যেভাবে ঘটলো প্রতিবাদ
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন খান তার নির্ধারিত ক্লাসে প্রবেশ করেন সম্পূর্ণ ইসলামি পোশাকে (সম্ভবত বোরকা বা অনুরূপ পোশাকে)। অপ্রত্যাশিতভাবে শিক্ষককে এই পোশাকে দেখে শিক্ষার্থীরা প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও, দ্রুতই তারা প্রতিবাদের মূল কারণ ও প্রেক্ষাপট বুঝতে পারেন। অধ্যাপকের এই সাহসী পদক্ষেপকে শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক হিসেবেই নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
কেন এই অভিনব প্রতিবাদ?
অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন খান তার এই অভিনব প্রতিবাদের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, তিনি শুনেছেন বা জানতে পেরেছেন যে, ক্যাম্পাসে কিছু ছাত্রী হিজাব বা বোরকা পরার কারণে কটূক্তি বা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি মনে করেন, পোশাক নির্বাচন একজন ব্যক্তির সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।
তিনি আরও বলেন, গত জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনাই ছিল সকল প্রকার বৈষম্যের অবসান এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা। সেই চেতনা থেকেই তিনি ছাত্রীদের প্রতি সংহতি জানাতে এবং পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি বার্তা দিতে চেয়েছেন, পোশাক কখনোই একজন মানুষের পরিচয়ের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না এবং কাউকে তার পোশাকের জন্য হেনস্তা করা অনুচিত ও অগ্রহণযোগ্য।
ঘটনার তাৎপর্য: পোশাকের স্বাধীনতা ও সম্মান
এই ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদ নয়, বরং এটি শিক্ষাঙ্গনে পোশাকের স্বাধীনতার অধিকার এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি জোরালো বার্তা। বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে তার ধর্ম পালন এবং নিজ পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরিধানের স্বাধীনতা দিয়েছে। শিক্ষাঙ্গনের মতো একটি মুক্তচিন্তার জায়গায় সেই স্বাধীনতা খর্ব হওয়া বা কাউকে তার পোশাকের জন্য হেনস্তার শিকার হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অধ্যাপক খানের এই প্রতিবাদ সেই উদ্বেগেরই বহিঃপ্রকাশ।
শেষ কথা
একজন শিক্ষকের এমন সাহসী ও অভিনব প্রতিবাদ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। এটি শুধু হয়রানির শিকার ছাত্রীদের পাশেই দাঁড়ায়নি, বরং পুরো সমাজকে পোশাকের স্বাধীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব সম্পর্কে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই প্রতিবাদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে আরও সচেতন হবেন এবং ক্যাম্পাসে সকলের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হবেন।