আহত মাদরাসা শিক্ষকদের হাসপাতালে দেখতে গেলেন তাসনিম জারা, জানালেন পূর্ণ একাত্মতা
জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত স্বাধীন ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে দেখতে গেলেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও ছাত্রনেতা তাসনিম জারা। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষকদের শয্যা পাশে যান, তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
শিক্ষকদের এই যৌক্তিক ও ন্যায্য আন্দোলনের প্রতি তিনি পূর্ণ একাত্মতাও ঘোষণা করেন।
তাসনিম জারা যা বললেন
আহত শিক্ষকদের দেখতে গিয়ে তাসনিম জারা বলেন, শিক্ষকরা হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, তাদের মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের আজ তাদের ন্যায্য অধিকারের জন্য রাজপথে নামতে হয়েছে এবং সেখানে তাদের আহত হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে সুযোগ-সুবিধা পান, একই কাজ করেও ইবতেদায়ি শিক্ষকরা তা থেকে বঞ্চিত। এই চরম বৈষম্যের বিরুদ্ধেই তাদের এই আন্দোলন।”
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার সাথে সম্পৃক্ত
তাসনিম জারা শিক্ষকদের এই আন্দোলনকে জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনার সাথে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্যই ছিল রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে সকল প্রকার বৈষম্য দূর করা। ইবতেদায়ি শিক্ষকরা সেই বৈষম্য নিরসনেরই লড়াই করছেন। তাদের এই আন্দোলন শতভাগ যৌক্তিক এবং জুলাই সনদের চেতনারই প্রতিফলন।”
তিনি শিক্ষকদের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজে এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে “স্বাধীন ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট”-এর ব্যানারে শিক্ষকরা গত সোমবার (২৭ অক্টোবর) মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেন। মঙ্গলবার তারা একই দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে যেতে চাইলে পথে বাধার সম্মুখীন হন এবং একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শেষ কথা
জুলাই অভ্যুত্থানের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতার এই হাসপাতাল পরিদর্শন আন্দোলনরত শিক্ষকদের নৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাসনিম জারা আহত শিক্ষকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান এবং শিক্ষকদের জাতীয়করণের এই যৌক্তিক দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।