ঢাবি ক্যাম্পাস হোক হকার-ভাসমান মুক্ত: ৮৯ শতাংশ মানুষের মত (জরিপ)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস কি হকার ও ভাসমান লোকমুক্ত হওয়া উচিত? এই প্রশ্নের জবাবে দেশের সিংহভাগ মানুষই ‘হ্যাঁ’ বলেছেন। বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘একাত্তর টিভি’-এর একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এই চিত্র। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮৯ শতাংশ মানুষই মনে করেন, দেশের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠের ক্যাম্পাস হকার ও ভাসমান লোকমুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
জরিপের ফলাফল একনজরে
‘একাত্তর টিভি’ তাদের নিয়মিত আয়োজন ‘মতামত জরিপ’-এ দর্শকদের কাছে প্রশ্ন রেখেছিল: “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কি হকার-ভাসমান লোকমুক্ত হওয়া উচিত?”
ফলাফল:
- হ্যাঁ (পক্ষে): ৮৯ শতাংশ
- না (বিপক্ষে): ১১ শতাংশ
এই ফলাফল स्पष्टভাবে (স্পষ্টভাবে – clearly) দেখাচ্ছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে এবং তারা এর একটি স্থায়ী সমাধান চান।
কেন এই জোরালো দাবি?
সম্প্রতি ২৩ অক্টোবরের রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে বহু হকার ও ভাসমান লোক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং সমাবেশ শেষ হওয়ার পরও তারা ক্যাম্পাস ছাড়েনি বলে অভিযোগ ওঠে। টিএসসি, শহীদ মিনার, কার্জন হলসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের অবাধ বিচরণ ও অবস্থানের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন।
সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের এই দাবির পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:
- নিরাপত্তা ঝুঁকি: অভিযোগ রয়েছে, এদের অনেকের বিরুদ্ধেই চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
- শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট: ক্যাম্পাসের একাডেমিক ও শান্ত পরিবেশে বহিরাগতদের হৈ-হট্টগোল, যেখানে-সেখানে অবস্থান পড়াশোনার মনোনিবেশে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
- অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি: ভাসমানদের অনেকেই ক্যাম্পাসের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে, যা দৃষ্টিকটু এবং স্বাস্থ্যহানিকর।
৮৯% সমর্থনের তাৎপর্য
একটি বিষয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের একমত হওয়া প্রমাণ করে যে, সমস্যাটি কতটা গভীর এবং এর সমাধান কতটা জরুরি। এই জনমত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর একটি বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে, যাতে তারা ক্যাম্পাসকে বহিরাগতমুক্ত করতে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে, তবে ভাসমানদের সংখ্যাধিক্য এবং তাদের বারবার ফিরে আসার কারণে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে, সাধারণ মানুষের এই জোরালো সমর্থন প্রশাসনকে হয়তো আরও সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ (যেমন: আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর স্থায়ী সহায়তা) গ্রহণে উৎসাহিত করবে।
শেষ কথা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং ঐতিহ্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। একাত্তর টিভির এই জনমত জরিপ সেই জরুরিয়াতকেই তুলে ধরেছে। ৮৯ শতাংশ মানুষের এই দাবিকে সম্মান জানিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে ক্যাম্পাসকে হকার ও ভাসমান লোকমুক্ত করে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে এটাই এখন সকলের প্রত্যাশা।