মাদরাসা প্রধানদের কর্মস্থল ত্যাগে নতুন নিয়ম: ডিজি’র পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক!
দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মাদরাসার প্রধানদের (অধ্যক্ষ/সুপারিনটেনডেন্ট) জন্য একটি নতুন ও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এখন থেকে মাদরাসা প্রধানরা মহাপরিচালকের (ডিজি) পূর্বানুমতি ছাড়া কোনোভাবেই তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।
এই নির্দেশনাটি মাদরাসার প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জারি করা হয়েছে বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
নির্দেশনায় কী বলা হয়েছে?
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
- মাদরাসা প্রধানদের (অধ্যক্ষ/সুপারিনটেনডেন্ট) সরকারি বা ব্যক্তিগত যেকোনো প্রয়োজনে কর্মস্থলের বাইরে যেতে হলে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছ থেকে আবশ্যিকভাবে পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে।
- অনুমতি ছাড়া কোনো মাদরাসা প্রধান কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।
এই আদেশটি অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল মাদরাসার জন্য প্রযোজ্য এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে।
কেন এই কঠোর নির্দেশনা?
এই নতুন নিয়ম জারির পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:
- প্রশাসনিক শৃঙ্খলা: অনেক সময় দেখা যায়, মাদরাসা প্রধানরা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বা যথাযথ অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এতে মাদরাসার প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়।
- কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা: মাদরাসা প্রধান হলেন প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি। তার অনুপস্থিতিতে মাদরাসার দৈনন্দিন একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিতে পারে বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হতে পারে।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: এই নির্দেশনার মাধ্যমে মাদরাসা প্রধানদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। কে, কখন, কী কারণে কর্মস্থলের বাইরে যাচ্ছেন, তা অধিদপ্তরের রেকর্ডে থাকবে।
কীভাবে নিতে হবে অনুমতি?
যদিও বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি, তবে সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে মাদরাসা প্রধানকে কর্মস্থল ত্যাগের কারণ ও সময়কাল উল্লেখ করে মহাপরিচালক বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হলেই কেবল তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন। জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের নিয়মাবলীও অধিদপ্তর পরবর্তীতে স্পষ্ট করতে পারে।
শেষ কথা
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপটিকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাদরাসা প্রধানদের এখন থেকে তাদের যেকোনো ধরনের ছুটি বা কর্মস্থলের বাইরের কাজে যাওয়ার পরিকল্পনা করার সময় এই নতুন নিয়মটি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে প্রশাসনিক জটিলতা বা বিভাগীয় ব্যবস্থার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।