সরকারি স্কুলে ভর্তি: লটারি থাকছেই, তবে আসছে বেশ কিছু পরিবর্তন!
দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির পদ্ধতি নিয়ে যে জল্পনা-কল্পনা চলছিল, তার অবসান হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও ১ম শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া লটারির মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে।
অর্থাৎ, ভর্তি পরীক্ষার দাবিতে শিক্ষকদের একাংশের যে দাবি ছিল, তা আপাতত মানা হচ্ছে না। তবে, খুশির খবর হলো, বিদ্যমান লটারি পদ্ধতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে প্রক্রিয়াটিকে আরও সুষ্ঠু ও কার্যকর করার জন্য।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়।
কেন লটারি পদ্ধতিই বহাল থাকছে?
সরকার মূলত কয়েকটি কারণে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে:
- শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমানো: ভর্তি পরীক্ষার তীব্র প্রতিযোগিতা শিশুদের ওপর enorme (엄청난 – enormous) মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। লটারি এই চাপ থেকে তাদের মুক্তি দেয়।
- কোচিং বাণিজ্য রোধ: ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কোচিং বাণিজ্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা গেছে লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে।
- ভর্তির সমান সুযোগ: মেধার পাশাপাশি ভাগ্যের মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ থাকায় বিভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে আসা শিক্ষার্থীরা নামকরা স্কুলগুলোতে ভর্তির একটি সমান সুযোগ পায়।
কী কী পরিবর্তন আসছে লটারি পদ্ধতিতে?
যদিও মূল পদ্ধতি লটারিই থাকছে, তবে এর প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট কিছু নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সভায় আলোচিত সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ক্লাস্টার/ক্যাচমেন্ট এরিয়া পুনর্বিন্যাস: বর্তমানে থানা বা জেলা পর্যায়ে স্কুলগুলোকে ক্লাস্টারে ভাগ করে বা স্কুলের পার্শ্ববর্তী এলাকাকে (ক্যাচমেন্ট এরিয়া) অগ্রাধিকার দিয়ে লটারি করা হয়। এই ক্লাস্টার বা এলাকার বিন্যাসে কিছু যৌক্তিক পরিবর্তন আনা হতে পারে, যাতে শিক্ষার্থীরা möglichst (যতটা সম্ভব – as much as possible) কাছাকাছি স্কুলে ভর্তির সুযোগ পায় এবং অযৌক্তিক দূরত্বে স্কুল নির্বাচন না হয়।
- আবেদন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন: অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করার জন্য কিছু কারিগরি উন্নয়ন বা পরিবর্তন আনা হতে পারে।
- সমন্বয় বৃদ্ধি: ভর্তির পুরো প্রক্রিয়াটি যেন আরও স্বচ্ছ ও সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।
তবে, ঠিক কী কী পরিবর্তন চূড়ান্তভাবে আসছে, তা বিস্তারিত জানা যাবে ভর্তি সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর।
শিক্ষকদের দাবি প্রসঙ্গে
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাকেশিস) লটারির বদলে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছিল। তারা মনে করেন, লটারি মেধার অবমূল্যায়ন করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের সেই দাবি আপাতত গ্রহণ না করলেও, লটারি পদ্ধতির ত্রুটিগুলো সংশোধন করে একে আরও গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা করছে বলে প্রতীয়মান হয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ: ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) খুব শীঘ্রই ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তির বিস্তারিত সময়সূচি ও নিয়মাবলীসহ পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। ধারণা করা হচ্ছে, নভেম্বর মাসের মধ্যেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
শেষ কথা
সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখার সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত। তবে, এই পদ্ধতিতে যে পরিবর্তনগুলো আনা হচ্ছে, তা প্রক্রিয়াটিকে আরও কতটা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবান্ধব করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সকল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাউশি’র ওয়েবসাইটে (www.dshe.gov.bd) চোখ রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।