বিজ্ঞাপন

এপ্রিলেই এনটিআরসিএ-র প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা: আবেদন ও প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) যোগ্য এবং দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এনটিআরসিএ জানিয়েছে যে, আগামী এপ্রিল ২০২৬-এ এই বিশেষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

আগে এই নিয়োগগুলো পরিচালনা কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে থাকলেও, এখন থেকে সরকারি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। নিচে এই পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি, যোগ্যতা এবং প্রস্তুতির কৌশল আলোচনা করা হলো।

পরীক্ষার সময়সূচি ও সম্ভাব্য তারিখ

এনটিআরসিএ-র সূত্র অনুযায়ী, পরীক্ষার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

  • পরীক্ষার সম্ভাব্য মাস: এপ্রিল ২০২৬।
  • আবেদন প্রক্রিয়া: মার্চ মাস থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে।
  • পরীক্ষার ধরন: এটি সাধারণত একটি লিখিত এবং মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষার সমন্বয়ে হবে।

আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলী

প্রতিষ্ঠান প্রধান বা প্রশাসনিক পদের জন্য এনটিআরসিএ নির্দিষ্ট কিছু শর্ত আরোপ করেছে:

  • অভিজ্ঞতা: আবেদনকারীকে অবশ্যই এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা (সাধারণত ১২-১৫ বছর) থাকতে হবে।
  • বর্তমান পদ: সহকারী প্রধান শিক্ষক বা জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা এই পদের জন্য অগ্রাধিকার পাবেন।
  • এনটিআরসিএ সনদ: অনেক ক্ষেত্রে নিবন্ধন সনদ থাকা বাধ্যতামূলক হতে পারে, যা বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।

কেন এই নতুন পদ্ধতি? (সংস্কারের কারণ)

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগে ‘ম্যানেজিং কমিটি’র মাধ্যমে নিয়োগ হওয়ার সময় প্রায়ই স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠত। এই সংকট কাটাতে এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:

  • স্বচ্ছতা: মেধার ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিরাই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাবেন।
  • শিক্ষার মানোন্নয়ন: একজন দক্ষ প্রধান শিক্ষক একটি প্রতিষ্ঠানের আমূল পরিবর্তন করতে পারেন, যা এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য।
  • জবাবদিহিতা: এই পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্তরা সরাসরি মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের কাছে অধিকতর জবাবদিহি করবেন।

পরীক্ষার সিলেবাস ও প্রস্তুতির টিপস

যেহেতু এটি একটি প্রশাসনিক পদ, তাই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র শুধুমাত্র পাঠ্যবই কেন্দ্রিক হবে না। প্রস্তুতির জন্য নিচের বিষয়গুলোতে নজর দিতে হবে:

  1. শিক্ষা আইন ও নীতিমালা: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা সম্পর্কে সম্যক ধারণা।
  2. প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা: একটি বিদ্যালয় বা কলেজ পরিচালনার নিয়মাবলী, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং শৃঙ্খলা বিধি।
  3. সাধারণ জ্ঞান ও ভাষা: বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী।
  4. নেতৃত্বের গুণাবলী: ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায় নেতৃত্বের ক্ষমতা এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা যাচাই করা হবে।

প্রার্থীদের জন্য জরুরি পরামর্শ (ভ্যালু এডিশন)

যারা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক, তাদের এখনই নিচের কাজগুলো সেরে রাখা উচিত:

  • কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা: শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার সনদ, এমপিও শিট এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখুন।
  • নিয়মিত আপডেট চেক করা: এনটিআরসিএ-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.ntrca.gov.bd নিয়মিত ভিজিট করুন।

FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১: এই পরীক্ষা কি সবার জন্য উন্মুক্ত? উত্তর: না। এটি শুধুমাত্র অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জন্য যারা বর্তমানে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং নির্দিষ্ট বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।

প্রশ্ন ২: ম্যানেজিং কমিটি কি আর নিয়োগ দিতে পারবে না? উত্তর: এনটিআরসিএ-র নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে কমিটির একক ক্ষমতা আর থাকছে না। বোর্ড বা কর্তৃপক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে।

প্রশ্ন ৩: পরীক্ষার কেন্দ্র কোথায় হবে? উত্তর: সাধারণত বিভাগীয় শহরগুলোতে এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।


উপসংহার: নেতৃত্বের নতুন দিগন্ত

এনটিআরসিএ-র অধীনে এপ্রিলের এই পরীক্ষা দেশের বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। দক্ষ নেতৃত্বই পারে একটি উন্নত ও মেধাভিত্তিক জাতি গঠন করতে। যোগ্য প্রার্থীদের জন্য এটি একটি বিশাল সুযোগ নিজের মেধা ও অভিজ্ঞতা প্রমাণের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *