বাংলাদেশ

ক্ষমতায় গেলে প্রাথমিকে ‘ধর্মীয় শিক্ষক’ নিয়োগ দেব”: জিএম কাদেরের নতুন ঘোষণা

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে একটি বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, তার দল যদি ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়, তবে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে “ধর্মীয় শিক্ষক”-এর নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে এবং সেই পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

গতকাল (শনিবার, ২৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে “জাতীয় ওলামা পরিষদ” আয়োজিত এক স্কলারশিপ প্রদান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন।

কেন এই উদ্যোগ? (জিএম কাদেরের ব্যাখ্যা)

জিএম কাদের তার বক্তব্যের পেছনে সুস্পষ্ট যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, একটি শিশুর নৈতিক চরিত্র গঠনের আসল সময় হলো তার শৈশব, অর্থাৎ প্রাথমিক শিক্ষা জীবন। কিন্তু বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় এই স্তরে শিশুদের জন্য আলাদাভাবে ধর্মীয় শিক্ষা বা নৈতিকতা চর্চার কোনো বিশেষায়িত ব্যবস্থা নেই।

তার মতে:

  • নৈতিক চরিত্র গঠন: জাতীয় পার্টি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদর্শ ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। আর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে হবে প্রাথমিক স্তর থেকেই।
  • বর্তমান শূন্যতা: তিনি উল্লেখ করেন, “বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের জন্য আলাদা ধর্মীয় শিক্ষার কোনো সুযোগ নেই। অথচ শিশুদের চরিত্র গঠনের এটাই আসল সময়।”
  • লক্ষ্য: এই শূন্যতা পূরণ করতেই জাতীয় পার্টি প্রাথমিক স্তর থেকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা চালুর এই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

কী পরিবর্তন আসতে পারে?

যদি এই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তন আনবে। এর অর্থ হলো:

১. প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ধর্মীয় শিক্ষক’ নামে একটি নতুন শিক্ষকের পদ তৈরি হবে। ২. এই পদ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি নতুন ও বৃহৎ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সূচনা হবে।

শেষ কথা

জাতীয় ওলামা পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া জিএম কাদেরের এই প্রতিশ্রুতিকে রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, শিশুদের মধ্যে শৈশব থেকেই নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রোথিত করার লক্ষ্যেই তার দলের এই পরিকল্পনা। এই ঘোষণাটি দেশের আলেম সমাজ এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *