বাংলাদেশ

শিক্ষাখাতে ‘সর্বোচ্চ বরাদ্দ’র প্রতিশ্রুতি বিএনপির! শিক্ষক আন্দোলনে পূর্ণ একাত্মতা ঘোষণা

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণ ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে চলমান আন্দোলন এবার একটি নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেলো। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই আন্দোলনের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ একাত্মতা ঘোষণা করেছে

শুধু তাই নয়, দলটি একটি যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। গতকাল (শনিবার) আন্দোলনরত শিক্ষকদের মাঝে উপস্থিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন, “বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসে, তবে বাজেটে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হবে।”

শিক্ষকদের দাবি ‘যৌক্তিক’, পাশে আছে বিএনপি

রাজধানীতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের অবস্থানে গিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, শিক্ষকরা হলেন ‘মানুষ গড়ার কারিগর’, কিন্তু আজ তারা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি শিক্ষকদের বর্তমান দাবিগুলোকে “যৌক্তিক” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি শিক্ষকদের এই যৌক্তিক আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে। তার এই বক্তব্যটি রাজপথে থাকা হাজার হাজার শিক্ষককে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন ‘সর্বোচ্চ বরাদ্দ’র এই প্রতিশ্রুতি?

জয়নুল আবদিন ফারুক তার বক্তব্যে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, শিক্ষা খাতের প্রতি বর্তমান সরকারের অবহেলার কারণেই আজ শিক্ষকদের রাজপথে নামতে হয়েছে এবং শিক্ষাব্যবস্থা একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির এই প্রতিশ্রুতির মূল লক্ষ্যগুলো হলো:

  • বৈষম্য নিরসন: শিক্ষা খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধি করে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বেতন-ভাতার বৈষম্য দূর করা।
  • শিক্ষার মানোন্নয়ন: বর্ধিত বাজেট দিয়ে শিক্ষার অবকাঠামো, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা।
  • শিক্ষকদের মর্যাদা: শিক্ষকদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান ফিরিয়ে আনা।

বিশ্লেষণ: এই ঘোষণায় আন্দোলনের মোড় ঘুরবে?

শিক্ষকদের আন্দোলন যখন তুঙ্গে, যখন সরকারের পক্ষ থেকে ১৫% ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবকেও শিক্ষকরা ‘অপূর্ণ’ বলে মনে করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বিএনপির মতো একটি বড় দলের কাছ থেকে ‘সর্বোচ্চ বরাদ্দ’র এই প্রতিশ্রুতি আন্দোলনকে নতুন শক্তি জোগাবে।

এটি শিক্ষকদের ৩ দফা দাবির (বিশেষ করে জাতীয়করণ, যার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন) সপক্ষে একটি বড় রাজনৈতিক আশ্বাস। এই ঘোষণা নিছক শিক্ষকদের দাবি আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি এখন দেশের শিক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ নীতি-নির্ধারণী একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হলো।

শেষ কথা

শিক্ষকদের যৌক্তিক আন্দোলন এখন আর শুধু শিক্ষক সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা জাতীয় রাজনীতির মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বিএনপির এই প্রতিশ্রুতির পর এখন এটাই দেখার বিষয় যে, শিক্ষা খাতের এই মৌলিক সমস্যা সমাধানে এবং শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরাতে সরকার বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কতটা আন্তরিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *