বাকসু নির্বাচন: দীর্ঘ অচলায়তন ভাঙতে এবার আমরণ অনশনে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী!
দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে, তখন সেই একই দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাস। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) নির্বাচনের দাবিতে এবার এক শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেছেন।
গণতান্ত্রিক অধিকার ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবিতে এই একক প্রতিবাদ ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কেন এই অনশন? (মূল দাবি)
এই আমরণ অনশনের মূল এবং একমাত্র দাবি হলো—অবিলম্বে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং নির্বাচন আয়োজন করা।
বাকসু কী? ‘বাকসু’ হলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এরপর থেকে গত প্রায় ২৭ বছর ধরে এই ছাত্র সংসদটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে আছে।
ছাত্র সংসদ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ না থাকা মানে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার কোনো আনুষ্ঠানিক মঞ্চ না থাকা।
- শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব: ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলে এবং আবাসন, পরিবহন, খাবারের মান, লাইব্রেরি সুবিধা ও একাডেমিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের কাছে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরে।
- গণতান্ত্রিক চর্চা: বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক চর্চার সূতিকাগার। ছাত্র সংসদ নির্বাচন সেই চর্চাকেই ধারণ করে।
- ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব: একটি কার্যকরী ছাত্র সংসদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সৎ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরি করতে সহায়তা করে।
দেশের অন্যান্য ক্যাম্পাসের প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (যেমন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি ও আয়োজন নতুন করে গতি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই বাকৃবি’র শিক্ষার্থীরাও তাদের দীর্ঘদিনের হারানো অধিকার ফিরে পেতে সোচ্চার হয়েছেন।
শেষ কথা
দীর্ঘ ২৭ বছরের অচলায়তন ভাঙতে একজন শিক্ষার্থীর এই আমরণ অনশনকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এটি বাকৃবি’র হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মনের প্রতিবাদের প্রতিধ্বনি। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক দাবি পূরণে কবে নাগাদ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।