বিএনপির ‘সর্বোচ্চ বরাদ্দের’ প্রতিশ্রুতি: ‘কোন আমলে দিয়েছিলেন?’ – অধ্যাপক মামুনের পাল্টা প্রশ্ন
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণ ও বৈষম্য নিরসনের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গতকালই (শনিবার) বিএনপি নেতারা আন্দোলনরত শিক্ষকদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হবে।”
কিন্তু এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই, সেটিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মামুন (ছদ্মনাম বা প্রকৃত নাম, মূল খবরে উল্লিখিত)।
তিনি বিএনপির অতীত রেকর্ড স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের কোন শাসনামলে শিক্ষাকে এভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল?
অধ্যাপক মামুনের মূল প্রশ্নটি কী?
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মামুন বিএনপির এই প্রতিশ্রুতিকে ‘আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বক্তব্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বিএনপির নেতাদের কাছে তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন রেখে বলেছেন:
“বিএনপির নেতারা এখন শিক্ষকদের বলছেন, তারা ক্ষমতায় এলে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেবেন। আমার সরল প্রশ্ন হলো—তারা তো অতীতে একাধিকবার পূর্ণ মেয়াদে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন। দয়া করে বলুন, আপনারা আপনাদের কোন শাসনামলে (১৯৯১, ১৯৯৬ বা ২০০১) শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দটি দিয়েছিলেন?“
কথায় ও কাজে অমিল?
অধ্যাপক মামুনের এই প্রশ্নের মাধ্যমে মূলত বিএনপির প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতাকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। তার বক্তব্যের মূল সুরটি হলো:
- অতীতের রেকর্ড: তিনি মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখনো শিক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। শিক্ষকরা তখনও তাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে রাজপথে ছিলেন।
- রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি: সাধারণত, কোনো দল যখন বিরোধী অবস্থানে থাকে বা কোনো আন্দোলন চলমান থাকে, তখন এমন বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ হয়।
- বাস্তবতার নিরিখে যাচাই: তিনি শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষকে শুধু আবেগঘন প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস না করে, দলগুলোর অতীত কর্মকাণ্ড ও বাজেট বরাদ্দের প্রকৃত ইতিহাস যাচাই করে দেখার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষণ: শিক্ষকদের আন্দোলন এখন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রে
অধ্যাপক মামুনের এই পাল্টা প্রশ্ন শিক্ষকদের আন্দোলনকে একটি নতুন মাত্রা দিয়েছে। এটি এখন আর শুধু শিক্ষক-সরকারের দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
- বিএনপির অবস্থান: বিএনপি শিক্ষকদের এই আন্দোলনকে একটি ‘যৌক্তিক’ দাবি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যৎ বাজেটে এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ‘কার্ড’ খেলেছে।
- পাল্টা অবস্থান: অন্যদিকে, অধ্যাপক মামুনের মতো শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা সেই প্রতিশ্রুতিকে ‘অতীতের আয়নায়’ ফেলে এর বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করতে চাইছেন।
শেষ কথা
শিক্ষকদের এই আন্দোলন এখন দেশের শিক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ নীতি-নির্ধারণের এক বড় মঞ্চে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো যখন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়াচ্ছে, তখন অধ্যাপক মামুনের মতো বিশ্লেষকদের এই প্রশ্নগুলো সাধারণ মানুষ এবং আন্দোলনরত শিক্ষকদের আরও গভীরভাবে ভাবতে সাহায্য করবে—তারা কি শুধু আশ্বাসে সন্তুষ্ট হবেন, নাকি দলগুলোর অতীত কর্মকাণ্ডও খতিয়ে দেখবেন?