বাংলাদেশ

উদ্ভাবন, উদ্যোগ ও নৈতিক নেতৃত্বে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে”: শিক্ষা উপদেষ্টা

দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য তরুণ প্রজন্মের প্রতি এক জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার

আজ (রোববার) ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি)’ আয়োজিত “জাতীয় যুব নেতৃত্ব সম্মেলন ২০২৫”-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তরুণদেরকেই “উদ্ভাবন, উদ্যোগ এবং নৈতিক নেতৃত্ব” নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত কাজ তরুণদেরই শেষ করতে হবে

শিক্ষা উপদেষ্টা তার ভাষণে সাম্প্রতিক জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই গণজাগরণ কেবল একটি সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল পুরো “ব্যবস্থা (সিস্টেম) পরিবর্তনের” একটি সূচনা।

তিনি বলেন, “তরুণরাই এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু এই পরিবর্তন এখনো শেষ হয়নি। এটি একটি অসমাপ্ত কাজ।”

ড. আবরার জোর দিয়ে বলেন, এই অসমাপ্ত বিপ্লবকে সম্পূর্ণ করার এবং এর মূল চেতনা—অর্থাৎ বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ—প্রতিষ্ঠা করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব এখন এই তরুণ প্রজন্মের কাঁধেই।

নেতৃত্ব কেন ‘নৈতিক’ হতে হবে?

শিক্ষা উপদেষ্টা তার বক্তব্যে ‘নৈতিকতা’ এবং ‘দেশপ্রেম’-এর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তরুণ নেতাদের উদ্দেশে বলেন:

  • দেশপ্রেম ও নৈতিকতা: নেতৃত্ব অবশ্যই দেশপ্রেম ও নৈতিকতার ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।
  • সততার বিকল্প নেই: তিনি (হুঁশিয়ারি) দেন যে, নৈতিকতা ও সততা বিবর্জিত নেতৃত্ব দেশকে আবারও পুরোনো সংকটের দিকেই ঠেলে দেবে।
  • সকল ক্ষেত্রে নেতৃত্ব: এই নেতৃত্ব শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা, উদ্ভাবন—জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তরুণদের এই নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সংকট উত্তরণে ‘উদ্ভাবন’ ও ‘উদ্যোগ’

ড. আবরার দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই গতানুগতিক সংকট থেকে গতানুগতিক উপায়ে বের হওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন তরুণদের নতুন ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনা।

  • উদ্ভাবন (Innovation): দেশের সমস্যাগুলো সমাধানে তরুণদের নতুন নতুন ও উদ্ভাবনী পথ খুঁজে বের করতে হবে।
  • উদ্যোগ (Initiative): কারও জন্য অপেক্ষা না করে, তরুণদেরকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিয়ে ভালো কাজের ‘উদ্যোগ’ গ্রহণ করতে হবে।

শেষ কথা

শিক্ষা উপদেষ্টার এই বক্তব্যটি তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা। তিনি মনে করিয়ে দিলেন যে, একটি দেশের ভবিষ্যৎ শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে নয়, বরং সেই দেশের তরুণদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম এবং উদ্ভাবনী শক্তির ওপরই নির্ভর করে। ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন পূরণের চাবিকাঠি এখন এই তরুণদের হাতেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *