বাংলাদেশ

পায়ে শিকল বেঁধে মাদরাসায় পাঠদান! প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মুক্ত শিক্ষার্থীরা (কুড়িগ্রাম)

শিক্ষাঙ্গনে এ কেমন বর্বরতা! কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় একটি মাদরাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রেখে পাঠদান করার মতো এক অমানবিক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। এই মর্মান্তিক খবর পাওয়ার পর স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে এবং শিকলবন্দী অবস্থায় থাকা শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের এক কওমি মাদরাসায় (মূল খবরে নাম উল্লেখ থাকলে যোগ করুন)। যেখানে মাদরাসা (হওয়া উচিত) জ্ঞানার্জন ও নৈতিক শিক্ষার কেন্দ্র, সেখানে কোমলমতি শিশুদের সাথে এমন আচরণে স্তম্ভিত এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।

ঘটনার সূত্রপাত: যেভাবে জানাজানি হয়

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উক্ত মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পায়ে ভারী শিকল পরিয়ে আটকে রাখা হয়েছে এবং এভাবেই তাদের (দৈনন্দিন) কার্যক্রমসহ পড়ালেখা করানো হচ্ছে। এই খবরটি কোনোভাবে স্থানীয় প্রশাসনের কানে পৌঁছায়।

বিষয়টির সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব অনুধাবন করে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) [ইউএনও’র নাম, যদি খবরে থাকে] এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

প্রশাসনের অভিযান ও উদ্ধার

সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের একটি দল আকস্মিকভাবে ওই মাদরাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে গিয়ে কর্মকর্তারা দেখতে পান, সত্যিই কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

  • তাৎক্ষণিক উদ্ধার: কর্মকর্তারা অবিলম্বে শিকল খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের মুক্ত করেন।
  • শিক্ষার্থীদের বক্তব্য: প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা যাতে মাদরাসা থেকে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্যই তাদের পায়ে শিকল পরানো হয়েছিল বলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। তবে শিক্ষার্থীরা ভীতি ও আতঙ্কের মধ্যে ছিল।

কেন এই নিষ্ঠুরতা?

পায়ে শিকল বেঁধে শিক্ষা দেওয়ার এই ঘটনা শুধু অমানবিকই নয়, এটি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন এবং শিশু অধিকারেরও চরম লঙ্ঘন।

  • শিশু অধিকার লঙ্ঘন: এটি সরাসরি শিশু নির্যাতন এবং তাদের স্বাধীনতা হরণের সামিল।
  • মানসিক নির্যাতন: এ ধরনের অভিজ্ঞতা শিশুদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ভীতি ও মানসিক ক্ষতের সৃষ্টি করে, যা তাদের স্বাভাবিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।
  • শিক্ষার পরিবেশ: ভীতি ও নির্যাতনের পরিবেশে কখনোই প্রকৃত শিক্ষা সম্ভব নয়। এটি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকেই ধ্বংস করে দেয়।

তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে অথবা বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা, এর পেছনের কারণ এবং কারা এর জন্য দায়ী, তা খতিয়ে দেখা হবে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। একইসাথে, উদ্ধারকৃত শিশুদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শেষ কথা

কুড়িগ্রামের রাজারহাটের এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন হলেও এটি দেশের আনাচে-কানাচে থাকা বিভিন্ন অননুমোদিত বা নজরদারির বাইরে থাকা আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে गंभीर (গুরুতর) প্রশ্ন তুলেছে। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *