বাংলাদেশ

১০ম পে-স্কেল: ঈদ বোনাস দ্বিগুণ ও সর্বনিম্ন বেতন ৩২,৫০০ টাকাসহ একগুচ্ছ প্রস্তাবনা

১০ম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন তাদের দাবি ও সুপারিশমালা পেশ করছে কমিশনের কাছে। এরই ধারাবাহিকতায়, “সম্মিলita অধিকার ফোরাম”, যা সরকারি দপ্তরের ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে।

এই প্রস্তাবনার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দুটি বিষয় হলো ঈদ বোনাস দ্বিগুণ করা এবং সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩২,৫০০ টাকায় উন্নীত করা।

ঈদ বোনাস দ্বিগুণ করার প্রস্তাব

বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বছরে দুটি উৎসব ভাতা পান, যার প্রতিটি তাদের মূল বেতনের সমান। সম্মিলিত অধিকার ফোরাম প্রস্তাব করেছে, এই উৎসব ভাতা (বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার বোনাস) মূল বেতনের সমান না রেখে, শতভাগ মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা হোক।

অর্থাৎ, প্রতি ঈদে এক মাসের মূল বেতনের সমান বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা কার্যকরভাবে বর্তমান বোনাসের পরিমাণকে দ্বিগুণ করবে। ফোরামের যুক্তি হলো, উৎসবের সময় পারিবারিক ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায় এবং বর্তমান বোনাসের পরিমাণ সেই বর্ধিত চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়।

সর্বনিম্ন বেতন ও বৈষম্য কমানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত

ফোরাম তাদের পূর্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন অবশ্যই ৩২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

একইসাথে, বেতন কাঠামোর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বিশাল বৈষম্য কমিয়ে আনার প্রস্তাবও করা হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৫ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা

বোনাস বৃদ্ধি ও সর্বনিম্ন বেতনের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু জরুরি দাবি ও সুপারিশ পেশ করা হয়েছে:

  • ভাতা বৃদ্ধি: বর্তমান বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে চিকিৎসা ভাতা (কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা), শিক্ষা সহায়ক ভাতা (কমপক্ষে ২ হাজার টাকা), টিফিন ভাতা (কমপক্ষে ৩ হাজার টাকা) এবং যাতায়াত ভাতা (কমপক্ষে ৩ হাজার টাকা) করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
  • টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড: বাতিলকৃত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে।
  • রেশন ব্যবস্থা: নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে রেশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
  • পদোন্নতি ও নিয়োগবিধি: সকল পদে কর্মরতদের পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং সকল দপ্তরের জন্য একীভূত নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
  • আবাসন: কর্মচারীদের জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে, অথবা সম্মানজনক বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রদান করতে হবে।

শেষ কথা

সম্মিলিত অধিকার ফোরামের এই প্রস্তাবনাগুলো দেশের নিম্ন ও মধ্য গ্রেডের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর অর্থনৈতিক চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ১০ম জাতীয় বেতন কমিশন এখন এই প্রস্তাবগুলোসহ অন্যান্য সকল পক্ষের সুপারিশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করবে। দেশের আর্থিক সক্ষমতা এবং কর্মচারীদের জীবনমান উভয় দিক বিবেচনা করে একটি ন্যায্য, যৌক্তিক ও বৈষম্যহীন বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়ন করবে কমিশন, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *