অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্বাচনী প্রচারণার অনুমতি: ইসি সানাউল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও গাইডলাইন
ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী প্রচারণার ধরণে আসছে আমূল পরিবর্তন। নির্বাচন কমিশনার (ইসি) সানাউল্লাহ জানিয়েছেন যে, আসন্ন নির্বাচন এবং গণভোটের প্রচারণা এখন থেকে অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে চালানো যাবে। প্রযুক্তির এই যুগে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে অনলাইন প্রচারণাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
নিচে ইসির এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, এর সুবিধা এবং প্রার্থীদের জন্য পালনীয় নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা করা হলো।
অনলাইন প্রচারণার অনুমতি কেন?
ইসি সানাউল্লাহর মতে, বর্তমান যুগে অধিকাংশ মানুষ ইন্টারনেটে সময় কাটান। তাই প্রার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে:
- ব্যয় সংকোচন: প্রথাগত পোস্টার বা মাইকিংয়ের তুলনায় অনলাইনে কম খরচে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
- পরিবেশ রক্ষা: কাগজের ব্যবহার কমলে পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে।
- দ্রুত যোগাযোগ: প্রার্থীরা মুহূর্তের মধ্যে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার বা বার্তা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন।
সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন ক্যাম্পেইনের পরিধি
প্রার্থীরা এখন থেকে বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রচারণা চালাতে পারবেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম: লাইভ সেশন, ভিডিও মেসেজ এবং গ্রাফিক পোস্টের মাধ্যমে।
- ইউটিউব: নির্বাচনী ডকুমেন্টারি বা শর্ট ভিডিও প্রচার।
- ওয়েবসাইট: ব্যক্তিগত বা দলীয় ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তুলে ধরা।
- এক্স (টুইটার) ও হোয়াটসঅ্যাপ: ভোটারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ এবং আপডেট প্রদান।
অনলাইন প্রচারণায় ইসির বিশেষ ‘রেড লাইন’ বা নিষেধাজ্ঞা
অনলাইনে প্রচারণার সুযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশন কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। গুগল এবং সার্চ ইঞ্জিনগুলো স্বচ্ছ তথ্যকে প্রাধান্য দেয়, তাই এই পয়েন্টগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
- অপপ্রচার ও গুজব: প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মিথ্যা তথ্য বা গুজব ছড়ানো যাবে না।
- সাম্প্রদায়িক উস্কানি: ধর্মীয় বা জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ায় এমন কোনো কন্টেন্ট পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- সাইবার বুলিং: ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে হবে।
- অর্থায়ন স্বচ্ছতা: অনলাইন বিজ্ঞাপনের পেছনে কত টাকা ব্যয় করা হচ্ছে, তার হিসাব নির্বাচন কমিশনকে প্রদান করতে হতে পারে।
সাইবার সিকিউরিটি ও মনিটরিং
ইসি সানাউল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, অনলাইন প্রচারণার ওপর তীক্ষ্ণ নজরদারি রাখা হবে।
- বিটিআরসি (BTRC) এর সমন্বয়: ইসি এবং বিটিআরসি যৌথভাবে কাজ করবে যাতে কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন না করেন।
- আইনি ব্যবস্থা: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, নিয়ম ভঙ্গ করলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল বা জেল-জরিমানা হতে পারে।
FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
প্রশ্ন ১: অনলাইনে প্রচারণা কি ভোটের দিন পর্যন্ত চালানো যাবে? উত্তর: না। প্রথাগত প্রচারণার মতো অনলাইন প্রচারণাও ভোট গ্রহণের নির্দিষ্ট সময় আগে (সাধারণত ৪৮ ঘণ্টা) বন্ধ করতে হবে।
প্রশ্ন ২: সশরীরে প্রচারণার পাশাপাশি কি অনলাইন প্রচারণা চালানো যাবে? উত্তর: হ্যাঁ, সশরীরে বা মাঠ পর্যায়ের প্রচারণার পাশাপাশি অনলাইনেও সমানতালে প্রচারণা চালানো যাবে।
প্রশ্ন ৩: ভোটাররা কি অনলাইনে প্রার্থীদের প্রশ্ন করতে পারবেন? উত্তর: এটি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। প্রার্থীরা চাইলে ভোটারদের সাথে প্রশ্নোত্তর পর্ব বা ইন্টারঅ্যাক্টিভ সেশন করতে পারেন, যা ইসি উৎসাহিত করছে।
উপসংহার: আধুনিক গণতন্ত্রের পথে এক ধাপ এগিয়ে
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহর এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এটি যেমন তরুণ ভোটারদের নির্বাচনে আগ্রহী করবে, তেমনি প্রচারণায় স্বচ্ছতা আনতেও সাহায্য করবে। তবে এই সুবিধার অপব্যবহার রোধে প্রার্থী এবং ভোটার—উভয়কেই সচেতন থাকতে হবে।