বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু: শপথ নিলেন ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।

বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান। নিচে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো।

শপথ অনুষ্ঠানের বিশেষ আয়োজন

ঐতিহ্য ভেঙে এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে (দক্ষিণ প্লাজা) শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি প্রায় ১,২০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

  • উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ: বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং তিন বাহিনীর প্রধানগণ।
  • বিদেশি অতিথি: ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবালসহ ১৩টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান সরকারের মন্ত্রিসভা (এক নজরে)

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন এই মন্ত্রিসভা ৪৯ সদস্য বিশিষ্ট। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও দপ্তর (সম্ভাব্য):

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য মন্ত্রীরা হলেন: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং আমান উল্লাহ আমান।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা স্থান পেয়েছেন:

নতুন প্রজন্মের অনেক পরিচিত মুখ এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর, ইশরাক হোসেন, শামা ওবায়েদ এবং সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।

তারেক রহমানের প্রথম প্রতিক্রিয়া ও লক্ষ্য

শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির উদ্দেশে ‘জাতীয় ঐক্য’ এবং ‘রাষ্ট্র সংস্কার’-এর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো:

  1. ৩১ দফা বাস্তবায়ন: বিএনপি ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ রূপরেখা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা।
  2. সুশাসন নিশ্চিত করা: বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
  3. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: জুলাই বিপ্লব পরবর্তী দেশের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা কাটিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা।

রাজনৈতিক তাৎপর্য ও চ্যালেঞ্জ

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এটি শুধুমাত্র ক্ষমতা বদল নয়, বরং একটি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের হাতে দেশের দায়িত্ব অর্পণ। তবে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১: তারেক রহমান কত বছর পর দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হলেন?

উত্তর: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও আইনি লড়াই শেষে ২০২৫ সালে দেশে ফিরে তিনি ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

প্রশ্ন ২: গত নির্বাচনে বিএনপি কতটি আসন পেয়েছে?

উত্তর: ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

প্রশ্ন ৩: বর্তমান বিরোধী দল কোনটি?

উত্তর: ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।


উপসংহার: এক নতুন ভোরের প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যাত্রা শুরু মূলত একটি সংস্কারমুখী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সাধারণ মানুষের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত এই সরকার মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে কতটা সফল হবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *