বাংলাদেশ

এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ: আবেদনের হিড়িক ও পরিসংখ্যান নিয়ে সর্বশেষ আপডেট

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও নিয়োগ জট কাটাতে প্রথমবারের মতো এনটিআরসিএ-র (NTRCA) মাধ্যমে শুরু হয়েছে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়া। ‘অষ্টম এনটিআরসিএ (প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান) পরীক্ষা-২০২৬’ নাম দেওয়া এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদনের সংখ্যা নিয়ে শিক্ষক ও প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবেদনের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো।

আবেদনের বর্তমান পরিসংখ্যান

এনটিআরসিএ সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:

  • মোট আবেদন সংখ্যা: এখন পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি প্রার্থী বিভিন্ন প্রশাসনিক পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন।
  • ফি প্রদান: আবেদনকারীদের মধ্যে একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে ফি জমা দিয়েছেন, তবে আবেদনের শেষ সময় পর্যন্ত এই সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
  • প্রতিদ্বন্দ্বিতা: প্রায় ১৩,৫৯৯টি পদের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, প্রতিটি প্রশাসনিক পদের জন্য গড়ে ২ থেকে ৩ জন যোগ্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পদের ধরন ও শূন্যপদের বিস্তারিত (এক নজরে)

মোট ১৩,৫৯৯টি পদের মধ্যে বিভিন্ন অধিদপ্তরের অধীনে শূন্যপদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

  • মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি): মোট ১০,২৭৮টি শূন্যপদ (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক)।
  • মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর: মোট ৩,১৩১টি শূন্যপদ (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপার)।
  • কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর: মোট ১৯০টি শূন্যপদ (অধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপার)।

আবেদনের শেষ সময় ও জরুরি নির্দেশনা

আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য এনটিআরসিএ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন নির্ধারণ করেছে:

  • আবেদনের শেষ সময়: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
  • ফি জমার শেষ সময়: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
  • আবেদন ফি: ৩৫০ টাকা (টেলিটকের মাধ্যমে প্রদেয়)।

নিয়োগের পরবর্তী ধাপসমূহ

নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ করতে সরকার ইতিমধ্যে ‘পরীক্ষা গ্রহণ কমিটি’ গঠন করেছে। আবেদনের পর প্রার্থীরা নিচের ধাপগুলোর মুখোমুখি হবেন:

  1. লিখিত পরীক্ষা (৮০ নম্বর): মেধা যাচাইয়ের মূল ভিত্তি।
  2. মৌখিক পরীক্ষা (৮ নম্বর): প্রশাসনিক নেতৃত্বের ক্ষমতা যাচাই।
  3. শিক্ষাগত যোগ্যতা (১২ নম্বর): প্রার্থীর একাডেমিক ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে নম্বর প্রদান। মোট ১০০ নম্বরের এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমেই যোগ্যতম প্রার্থীদের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হবে।

FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১: আবেদনের সময় কি বাড়ানো হবে? উত্তর: এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, আবেদনের সময় বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। নির্ধারিত ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

প্রশ্ন ২: ইনডেক্সধারী ছাড়া কি কেউ আবেদন করতে পারবেন? উত্তর: না। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদনের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই এমপিওভুক্ত শিক্ষক হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট পদের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে হবে।

প্রশ্ন ৩: ফলাফল কবে নাগাদ প্রকাশিত হতে পারে? উত্তর: প্রশাসনিক লক্ষ্য অনুযায়ী, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল ও সুপারিশ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।


উপসংহার: যোগ্য নেতৃত্বের পথে বাংলাদেশ

এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের এই উদ্যোগ শিক্ষা ক্যাডারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ৩০ হাজারের বেশি অভিজ্ঞ শিক্ষকের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, শিক্ষকরাও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ চান। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিরা প্রতিষ্ঠানের হাল ধরলে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার মান আমূল পরিবর্তিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *