শিক্ষা

প্রশ্ন ‘পদ্মা’ সেট? তাহলে কাশি দিন!’ পরীক্ষার হলে গণহারে কাশতে গিয়ে ধরা পরীক্ষার্থীরা!

চাকরির পরীক্ষায় নকল বা জালিয়াতির ঘটনা নতুন কিছু নয়। ডিজিটাল ডিভাইস, ব্লুটুথ বা প্রক্সি দেওয়ার মতো ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু সম্প্রতি একটি নিয়োগ পরীক্ষার হলে যে ঘটনা ঘটলো, তা জালিয়াতির সকল পুরোনো কৌশলকে হার মানিয়েছে। জালিয়াতির সংকেত হিসেবে এবার ব্যবহৃত হলো—কাশি!

হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। প্রশ্নপত্রের একটি নির্দিষ্ট সেট (কোড) পাওয়ার সংকেত হিসেবে একটি চক্র তাদের পরীক্ষার্থীদের গণহারে ‘কাশি’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। আর সেই নির্দেশ পালন করতে গিয়েই হাতেনাতে ধরা পড়েছে তারা।

কীভাবে কাজ করছিল এই ‘কাশি’ জালিয়াতি?

পরীক্ষা জালিয়াতির এই অভিনব কৌশলের মূল পরিকল্পনা ছিল প্রশ্নপত্রের সেট কোড বাইরে পাচার করা। সাধারণত, নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে একাধিক সেটে (যেমন: পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা) প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়, যেন কেউ প্রশ্ন ফাঁস করতে না পারে।

এই জালিয়াতি চক্রটির পরিকল্পনা ছিল নিম্নরূপ:

১. পূর্ব-পরিকল্পনা: চক্রটি তাদের পরীক্ষার্থীদের (যারা জালিয়াতির জন্য টাকা দিয়েছে) আগে থেকেই একটি সংকেত ঠিক করে দেয়।

২. সেট কোড শনাক্ত: পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র বিতরণের পর পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হয়, প্রশ্নপত্রের কোন সেটের (যেমন: ‘পদ্মা’) উত্তর তারা সরবরাহ করবে।

৩. সংকেত প্রদান: চক্রের নির্দেশ ছিল—যাদের ভাগে ‘পদ্মা’ সেট পড়েছে, তারা যেন পরীক্ষার হল থেকে বারবার ‘কাশি’ দিয়ে সংকেত দেয়।

৪. বাইরে থেকে শোনা: হলের আশেপাশে থাকা চক্রের সদস্যরা এই ‘কাশির’ শব্দ শুনে নিশ্চিত হয় যে, ‘পদ্মা’ সেটের পরীক্ষার্থী হলে উপস্থিত আছে এবং তাদের সেই সেটের উত্তর প্রস্তুত করতে হবে।

যেভাবে ধরা পড়লো এই চক্র

পরিকল্পনাটি অভিনব হলেও বোকামিতে পূর্ণ ছিল। পরীক্ষার হলে একজন-দুজন পরীক্ষার্থীর কাশি দেওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন একটি নির্দিষ্ট সময়ে, একটি নির্দিষ্ট হলের একাধিক পরীক্ষার্থী কোনো কারণ ছাড়াই বারবার এবং неестественно (অস্বাভাবিকভাবে) কাশতে শুরু করে, তখন তা দায়িত্বরত পরিদর্শকদের নজরে চলে আসে।

পরিদর্শকরা লক্ষ্য করেন, এই কাশি দেওয়াটা কোনো অসুস্থতার লক্ষণ নয়, বরং এটি একটি প্যাটার্ন অনুসরণ করে করা হচ্ছে। সন্দেহবাতিক পরিদর্শকরা তখন সেই পরীক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন এবং তাদের আচরণ ও কাশির ধরন দেখে জালিয়াতির বিষয়টি ধরে ফেলেন।

বিশ্লেষণ: কেন এই অদ্ভুত কৌশল?

ডিজিটাল ডিভাইস বা ব্লুটুথ নিয়ে হলে প্রবেশ করা এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ মেটাল ডিটেক্টর বা জ্যামার দিয়ে তা ধরে ফেলা সহজ। তাই জালিয়াতি চক্রগুলো এখন এমন ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে যা সহজে শনাক্ত করা যায় না। ‘কাশি’ দেওয়া তেমনই একটি কৌশল, যা ধরার কোনো প্রযুক্তিগত যন্ত্র নেই।

কিন্তু চক্রটি ভুলে গিয়েছিল যে, যেকোনো অস্বাভাবিক আচরণই মানুষের চোখে ধরা পড়ে।

শেষ কথা

‘কাশি’ দিয়ে জালিয়াতির এই ঘটনাটি একই সাথে হাস্যকর এবং উদ্বেগজনক। এটি প্রমাণ করে, জালিয়াতি চক্রগুলো তাদের লক্ষ্য পূরণে কতটা বেপরোয়া হতে পারে। তবে পরিদর্শকদের বিচক্ষণতায় এই অভিনব জালিয়াতি ভেস্তে গেছে। এই ঘটনায় আটক পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, যা অন্যদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *