ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শনিবারও খোলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান! ছুটির দিনেও ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও আজ (শনিবার) খোলা রয়েছে দেশের অধিকাংশ স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা। শিক্ষক-কর্মচারীদের পদচারণায় মুখর শিক্ষাঙ্গন, ক্লাস চলছে পুরোদমে। এটি মূলত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নেওয়া একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ, যার লক্ষ্য একটাই শিক্ষার্থীদের পাঠ ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া।
কেন ছুটির দিনেও ক্লাস? (পটভূমি)
সম্প্রতি জাতীয়করণ ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ঢাকায় টানা আট দিনেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে আন্দোলন ও কর্মবিরতি পালন করেন। এর ফলে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেণি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের দাবি (১৫% বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি) মেনে নেওয়ার পর শিক্ষকরা আন্দোলন স্থগিত করে ক্লাসে ফিরেছেন। কিন্তু এই আন্দোলনের ফলে বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করা নিয়ে যে বড় সংকট তৈরি হয়েছিল, তা নিরসন করতেই শিক্ষক নেতারা এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
“এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট”-এর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, আন্দোলনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বার্ষিক পরীক্ষার আগ পর্যন্ত (প্রায় ৪টি শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও ক্লাস নেওয়া হবে।
আজকের চিত্র: শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্ত, উপস্থিতি কম
আজ (২৫ অক্টোবর) এই ঘোষণার প্রথম শনিবার। সারাদেশ থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন:
- শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ: শিক্ষক-কর্মচারীরা সকাল থেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন এবং রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নিচ্ছেন। নওগাঁ, কুমিল্লা, পাবনা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলার স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় একই চিত্র দেখা গেছে।
- শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম: তবে, ছুটির দিন হওয়ায় এবং অনেকেই (বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়) বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত না থাকায় প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। অনেক প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেক বা তারও কম শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
- অভিভাবকদের সন্তুষ্টি: শিক্ষকদের এই স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, এই অতিরিক্ত ক্লাসগুলো বার্ষিক পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষক নেতাদের বক্তব্য
আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, “জনগণ আমাদের ন্যায্য আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিল। এখন তাদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
“এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট”-এর সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী জানিয়েছেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলো এই নির্দেশনা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে জোটের পক্ষ থেকে তদারকিও করা হবে।
শেষ কথা
শিক্ষকদের এই দায়িত্বশীল ও স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। এটি প্রমাণ করে, শিক্ষকরা কেবল তাদের অধিকার আদায়েই সোচ্চার নন, বরং শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনেও তারা সমানভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। আশা করা যাচ্ছে, আগামী শনিবারগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়বে এবং এই উদ্যোগ সফল হবে।