ব্যাংক তথ্যে ভুল: বৃত্তি পেয়েও টাকা পেলেন না ২৯ শিক্ষার্থী! দ্রুত যা করতে হবে
বৃত্তির জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েও টাকা না পাওয়াটা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একটি বৃত্তির তালিকায় ঠিক এমনটিই ঘটেছে। মাউশি’র পক্ষ থেকে মনোনীত ২৯ জন শিক্ষার্থীর অ্যাকাউন্টে বৃত্তির টাকা পাঠানো হলেও তা নির্দিষ্ট ভুলের কারণে ফেরত এসেছে (Bounce Back)।
এর মূল কারণ হিসেবে মাউশি জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের দেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যে মারাত্মক ভুল ছিল। এই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের টাকা পেতে হলে এখন কী করতে হবে, সে বিষয়ে মাউশি এক জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।
মূল ঘটনা কী? কেন টাকা ফেরত এলো?
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তাদের তালিকাভুক্ত বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত অর্থ সরকারি জিটুপি (G2P – Government to Person) সিস্টেমের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) করে।
কিন্তু, ২৯ জন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এই টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি, বরং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাউশি’র কাছে ফেরত এসেছে।
তদন্তে দেখা যায়, এর প্রধান কারণগুলো হলো:
- শিক্ষার্থীর দেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ভুল ছিল।
- ব্যাংকের শাখার নাম বা রাউটিং নম্বরে গরমিল ছিল।
- অ্যাকাউন্টের নামের সাথে শিক্ষার্থীর নামের মিল ছিল না।
জিটুপি একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি হওয়ায়, তথ্যে সামান্যতম গরমিল থাকলেই পেমেন্ট ব্যর্থ হয়।
মাউশির জরুরি নির্দেশনা: এখন করণীয় কী?
যেহেতু এই ২৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য যোগ্য এবং তাদের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তাই মাউশি এই জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
করণীয়: ভুক্তভোগী ২৯ জন শিক্ষার্থীকে (যাদের তালিকা মাউশি প্রকাশ করেছে) দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সঠিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য (সঠিক অ্যাকাউন্ট নম্বর, ব্যাংকের নাম, শাখার নাম ও রাউটিং নম্বর) সংগ্রহ করতে হবে।
কোথায় জমা দিতে হবে: এই সঠিক তথ্যগুলো শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ে (যেমন: ঢাকা অঞ্চলের জন্য ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়) জরুরি ভিত্তিতে জমা দিতে হবে।
আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এই সংশোধিত তথ্যগুলো মাউশি’র প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে এবং পরবর্তীতে পুনরায় তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেষ কথা
এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা যে, সামান্য তথ্যগত ভুলের কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মাউশি’র এই দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয়।
ভুক্তভোগী ২৯ জন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ হলো, আর এক মুহূর্তও দেরি না করে, নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় সঠিক ব্যাংক তথ্য সংগ্রহ করুন এবং তা অবিলম্বে মাউশি’র আঞ্চলিক অফিসে জমা দিন। এর মাধ্যমেই কেবল আপনার প্রাপ্য বৃত্তির টাকা দ্রুততম সময়ে আপনার অ্যাকাউন্টে পৌঁছানো নিশ্চিত হবে।