শিক্ষা

কৃষি ব্যাংক স্টাফ কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ! প্রশিক্ষণার্থীদের কঠোর নির্দেশনা

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা প্রশিক্ষণরতদের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ না করার নিয়ম নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক স্টাফ কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য এই বিষয়ে একটি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) কলেজটির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনায় ঠিক কী বলা হয়েছে?

বিজ্ঞপ্তিতে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় প্রশিক্ষণার্থীদের সকল প্রকার রাজনৈতিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে:

  • প্রশিক্ষণার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে বা দাপ্তরিকভাবে কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণা বা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
  • একইভাবে, তারা কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা মন্তব্য প্রদান থেকেও সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকবেন।

এই নির্দেশনাটি কলেজের সকল প্রশিক্ষণার্থীর জন্য প্রযোজ্য এবং এটি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে।

কেন এই নির্দেশনা? (প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য)

যদিও বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে এ ধরনের নির্দেশনার পেছনে সাধারণত কয়েকটি উদ্দেশ্য থাকে:

  1. শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা: সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী বা প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা প্রত্যাশিত। তাদের কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া চাকরিবিধির পরিপন্থী। এই নির্দেশনা সেই নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা।
  2. প্রশিক্ষণের সুষ্ঠু পরিবেশ: স্টাফ কলেজ একটি পেশাগত প্রশিক্ষণের স্থান। এখানে রাজনৈতিক কার্যকলাপ বা আলোচনা প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। কর্তৃপক্ষ সম্ভবত প্রশিক্ষণের সুষ্ঠু ও নিবিড় পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
  3. জুলাই পরবর্তী সতর্কতা: গত জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে আগের চেয়ে বেশি সতর্ক হয়েছে। এই নির্দেশনাটি সেই সতর্কতারই প্রতিফলন হতে পারে।

শেষ কথা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক স্টাফ কলেজের এই বিজ্ঞপ্তিটি মূলত একটি পেশাগত আচরণবিধি মনে করিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা। একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে হলে রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অপরিহার্য। এই নির্দেশনাটি সেই পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই জারি করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের এই নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমেই কলেজের এবং সর্বোপরি ব্যাংকের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *