প্রাথমিকে ইন্টারনেট বিল ১০০০ টাকা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে যাতায়াত ভাতা: ডিপিই’র নতুন বরাদ্দ
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ডিজিটালাইজেশন এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। এই সিদ্ধান্তের আওতায় এখন থেকে প্রতিটি বিদ্যালয় ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য মাসিক ১০০০ টাকা পাবে এবং প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা পাবেন নির্ধারিত যাতায়াত ও দৈনিক ভাতা।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এই সংক্রান্ত পৃথক দুটি আদেশ জারি করা হয়েছে।
প্রতি বিদ্যালয়ে মাসিক ১০০০ টাকা ইন্টারনেট ভাতা
শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করার লক্ষ্যে ডিপিই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য মাসিক ১,০০০ টাকা ইন্টারনেট বিল বাবদ বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- উদ্দেশ্য: এই অর্থ দিয়ে বিদ্যালয়গুলো ব্রডব্যান্ড সংযোগ বা মডেমের মাধ্যমে ইন্টারনেট সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। এর ফলে অনলাইন ক্লাস (প্রয়োজনে), দাপ্তরিক যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান, শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা (যেমন: হাজিরা, ফলাফল) এবং সরকারের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা গ্রহণ সহজ হবে।
- গুরুত্ব: এটি প্রাথমিক স্তরে ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে যাতায়াত ও দৈনিক ভাতা (TA/DA)
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক এবং আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। অনেক সময় এই প্রশিক্ষণগুলো নিজ উপজেলার বাইরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে যাতায়াত এবং অবস্থানের জন্য শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করতে হতো।
এই সমস্যা সমাধানে ডিপিই নতুন নির্দেশনা জারি করেছে:
- কারা পাবেন: যে সকল প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিজ কর্মস্থলের উপজেলার বাইরে বিষয়ভিত্তিক বা আইসিটি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করবেন।
- কী পাবেন: তারা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যাতায়াত ভাতা (Travel Allowance – TA) এবং দৈনিক ভাতা (Daily Allowance – DA) প্রাপ্য হবেন।
- সুবিধা: এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষকরা আর্থিক দুশ্চিন্তা ছাড়াই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারবেন, যা সরাসরি শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাস্তবায়ন ও শেষ কথা
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এই দুটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুততম সময়েই বিদ্যালয়গুলো ইন্টারনেট ভাতা এবং শিক্ষকরা প্রশিক্ষণকালীন টিএ/ডিএ সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে এই দুটি পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ইতিবাচক। ইন্টারনেট সুবিধা যেমন বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে আধুনিকায়ন আনবে, তেমনি প্রশিক্ষণকালীন ভাতার নিশ্চয়তা শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে আরও বেশি মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে।