ভিকারুননিসায় এইচএসসি’তে ‘ফল বিপর্যয়’! কেন এত ফেল? কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি চেয়ে অভিভাবকদের ক্ষোভ
দেশের শিক্ষা জগতে ‘সাফল্যের বাতিঘর’ হিসেবে পরিচিত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলে যখন এই প্রতিষ্ঠানটি জিপিএ-৫ এবং পাসের হারের রেকর্ডে ভেসে যায়, সেখানে ২০২৫ সালের চিত্রটি যেন সম্পূর্ণ উল্টো এবং অবিশ্বাস্য।
আজ (রোববার) এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ভিকারুননিসা ক্যাম্পাসে প্রতিবারের মতো মিষ্টি বিতরণ বা আনন্দের কোনো চিহ্নই ছিল না। এর বদলে, ক্যাম্পাসে ভিড় জমান শত শত ক্ষুব্ধ অভিভাবক। তাদের অভিযোগ—এই প্রতিষ্ঠানে অপ্রত্যাশিত ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এবার অকৃতকার্য হয়েছে, যা এক কথায় ‘ফল বিপর্যয়’।
কেন এই ক্ষোভ? (অভিভাবকদের বক্তব্য)
ফলাফল প্রকাশের পরপরই অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা একত্রিত হয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিপর্যয়ের কারণ জানতে চেয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের মূল বক্তব্য হলো—এই ব্যর্থতা শিক্ষার্থীদের নয়, বরং প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের।
অভিভাবকদের অভিযোগের তীর সরাসরি দুটি বিষয়ের দিকে:
১. শিক্ষকদের অবহেলা: অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে যথেষ্ট মনোযোগী ছিলেন না। ২. প্রশাসনের দুর্বলতা: কলেজ প্রশাসনের সার্বিক দুর্বল ব্যবস্থাপনা, শিক্ষকদের জবাবদিহিতার অভাব এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে উদাসীনতাকেই এই বিপর্যয়ের জন্য প্রধানত দায়ী করছেন তারা।
একজন ক্ষুব্ধ অভিভাবক বলেন, “আমরা দেশের সেরা সব মেধাবী ছাত্রীদের এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করি। এত ভালো ভালো ছাত্রী ভর্তির পরও কীভাবে তারা গণহারে ফেল করে? এর দায় সম্পূর্ণ কলেজ কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।”
বিশ্লেষণ: প্রশ্নবিদ্ধ ভিকারুননিসার ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে ভর্তি হওয়াটাই একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হয়। দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ার সুযোগ পান। স্বভাবতই, এই প্রতিষ্ঠান থেকে জাতি একটি সেরা ফলাফল আশা করে।
কিন্তু যখন সেই প্রতিষ্ঠান থেকেই ‘গণহারে’ ফেল করার মতো খবর আসে, তখন তা কয়েকটি গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়:
- ভেতরকার সমস্যা কী? যে প্রতিষ্ঠানের সুনাম দেশসেরা শিক্ষার্থী তৈরির জন্য, সেখানে এমন ফলাফল কি প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা বা প্রশাসনিক ব্যর্থতার চূড়ান্ত প্রতিফলন?
- শিক্ষার্থীদের দোষ, নাকি সিস্টেমের? অভিভাবকরা যখন সরাসরি শিক্ষকদের অবহেলা এবং প্রশাসনের দুর্বলতাকে দায়ী করছেন, তখন এই ‘ফল বিপর্যয়ে’র দায় শিক্ষার্থীরা নেবে, নাকি সিস্টেম নেবে?
- জবাবদিহিতা কার? এই অপ্রত্যাশিত ফলাফলের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দেবে কিনা, বা কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে কিনা—অভিভাবকরা এখন সেই জবাবদিহিতারই অপেক্ষায় আছেন।
শেষ কথা
ভিকারুননিসার মতো একটি ‘আইকনিক’ প্রতিষ্ঠানে এই ‘ফল বিপর্যয়’ শুধু কিছু শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের বিষয় নয়, এটি দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়েও একটি বড় সতর্কবার্তা। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার পেছনের আসল কারণটি দ্রুত তদন্ত করে বের করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত এই ক্ষোভ প্রশমনে ব্যর্থ হয় এবং একটি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারে, তবে তা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সুনামের ওপর একটি স্থায়ী দাগ ফেলে দেবে।