চাকরি

‘শিক্ষা ভবনের’ পরবর্তী ডিজি কে? ৬১ অধ্যাপকের ভাইভা শুরু কাল!

দেশের শিক্ষা প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। পূর্বের সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, এই পদের জন্য আবেদনকারী রেকর্ড ৬১ জন অধ্যাপকের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) আগামীকাল সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদের পদত্যাগের পর, নজিরবিহীনভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে এই শীর্ষ পদের জন্য আবেদন চাওয়া হয়েছিল। সেই বিজ্ঞপ্তিতে সাড়া দিয়েই বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের এই বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা আবেদন করেন।

কেন এই পদটি নিয়ে এত তোলপাড়?

মাউশি’র ডিজি পদটি শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে সম্মানজনক পদ হিসেবে বিবেচিত। এই পদের গুরুত্ব অপরিসীম:

  • প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু: দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি স্কুল ও কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম এই অধিদপ্তর থেকে পরিচালিত হয়।
  • এমপিও’র নিয়ন্ত্রক: লক্ষ লক্ষ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা, বদলি ও পদোন্নতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই পদের সাথে সরাসরি জড়িত।
  • নীতি নির্ধারণ: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব মাউশি ডিজি’র।

অতীতে এই পদে সাধারণত তদবির বা লবিং-এর মাধ্যমে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হলেও, এবারই প্রথম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা এই পদের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করেছে।

কারা নিচ্ছেন এই গুরুত্বপূর্ণ ভাইভা?

এই নজিরবিহীন নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারের নেতৃত্বে মোট ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি এই ভাইভা গ্রহণ করবে।
  • এই কমিটিই ৬১ জন প্রার্থীর যোগ্যতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা ও দূরদর্শিতা যাচাই করে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রদান করবে।

আবেদনকারীদের মধ্যে কারা আছেন?

আবেদনকারী ৬১ জন প্রার্থীর মধ্যে একটি বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে। জানা গেছে, এই তালিকায় রয়েছেন:

  • মাউশি’র বিভিন্ন উইংয়ে কর্মরত বর্তমান পরিচালকরা।
  • দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সরকারি কলেজের অধ্যক্ষরা।
  • এমনকি অতীতে মাউশি’তে পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও।

বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ১৬তম এবং তদূর্ধ্ব ব্যাচের কর্মকর্তারা এই পদের জন্য আবেদন করতে পেরেছেন, যাদের অবশ্যই সৎ, দায়িত্বপরায়ণ এবং প্রশাসনিক কাজে দক্ষ হতে হবে।

শেষ কথা

শিক্ষা খাতের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে (যেমন: শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন) একজন দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ডিজি’র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৬১ জন হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্য থেকে কে শেষ পর্যন্ত ‘শিক্ষা ভবনের’ এই শীর্ষ পদে আসীন হন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে দেশের সমগ্র শিক্ষা অঙ্গন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *