চাকরি

সর্বনিম্ন ৩২,৫০০ টাকা করার প্রস্তাব পে কমিশনে!

দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ১০ম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের পর থেকেই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। এরই ধারাবাহিকতায়, সরকারি কর্মচারীদের (১১ থেকে ২০ গ্রেডের) পক্ষ থেকে একটি জোরালো প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে বেতন কমিশনের কাছে।

“সম্মিলিত অধিকার ফোরাম”-এর ব্যানারে এই গ্রেডগুলোর কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো আজ (সোমবার) বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে তাদের সুপারিশমালা জমা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি হলো—সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন গ্রেডে (২০তম গ্রেড) মূল বেতন ৩২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা।

কেন সর্বনিম্ন ৩২,৫০০ টাকার প্রস্তাব?

সম্মিলিত অধিকার ফোরাম তাদের প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছে যে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের পক্ষে সম্মানজনকভাবে জীবনধারণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তারা উল্লেখ করেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো নির্ধারণের পর গত প্রায় ১০ বছরে জিনিসপত্রের দাম বহুগুণ বেড়েছে। তাই, বর্তমান বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে সর্বনিম্ন মূল বেতন অবশ্যই ৩২,৫০০ টাকা হওয়া প্রয়োজন।

বেতন বৈষম্য কমানোর জোর দাবি (১:৫ অনুপাত)

শুধু সর্বনিম্ন বেতন বৃদ্ধিই নয়, ফোরামের পক্ষ থেকে বেতন কাঠামোর উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বিশাল বৈষম্য কমানোরও জোর দাবি জানানো হয়েছে।

  • বর্তমান চিত্র: বর্তমানে সর্বোচ্চ গ্রেড এবং সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতনের অনুপাত প্রায় ১:৯, যা অত্যন্ত বৈষম্যমূলক বলে মনে করেন তারা।
  • প্রস্তাব: এই বৈষম্য কমিয়ে এনে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:৫ এর মধ্যে নিয়ে আসার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফোরামের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো

৩২,৫০০ টাকা সর্বনিম্ন বেতন এবং বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও সুপারিশ পেশ করা হয়েছে:

  1. টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড: বাতিলকৃত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে।
  2. রেশন ব্যবস্থা: নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে রেশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
  3. ভাতা বৃদ্ধি: বর্তমান বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়ক, যাতায়াত ও টিফিন ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করতে হবে।
  4. পদোন্নতির সুযোগ: সকল পদে কর্মরতদের পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে পদ সোপান তৈরি করতে হবে।
  5. নিয়োগবিধি: সকল দপ্তরের জন্য একীভূত নিয়োগবিধি প্রণয়ন করতে হবে।
  6. আবাসন: কর্মচারীদের জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে, অথবা সম্মানজনক বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রদান করতে হবে।

শেষ কথা

সম্মিলিত অধিকার ফোরামের এই প্রস্তাবনাটি নিঃসন্দেহে দেশের নিম্ন ও মধ্য গ্রেডের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর মনের কথা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ১০ম জাতীয় বেতন কমিশন এখন বিভিন্ন সংগঠন ও পক্ষের কাছ থেকে এ ধরনের আরও অনেক প্রস্তাবনা পাবে।

সকল প্রস্তাবনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে এবং দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে কমিশন একটি যৌক্তিক, ন্যায্য ও বৈষম্যহীন বেতন কাঠামোর সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। এই প্রস্তাবনাটি সেই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *