এমপিও শিক্ষকদের বদলির জট খুলছে! আসছে ‘সমন্বিত অনলাইন সফটওয়্যার’
দেশের বেসরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লক্ষ লক্ষ শিক্ষকদের জন্য অবশেষে একটি বহু প্রতীক্ষিত সুখবর আসতে যাচ্ছে। সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের মতো বেসরকারি শিক্ষকদেরও একটি স্বচ্ছ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় বদলির সুযোগ করে দিতে “সমন্বিত বদলি সফটওয়্যার” তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করার লক্ষ্যে সম্প্রতি এটুআই (a2i) কর্তৃপক্ষের সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেছে। মাউশি সূত্রে জানা গেছে, সব ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই এই যুগান্তকারী সফটওয়্যারটি তৈরির কাজ শুরু হতে পারে।
কেন এই উদ্যোগটি ঐতিহাসিক? (মূল প্রেক্ষাপট)
দীর্ঘদিন ধরে দেশের বেসরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা (বিশেষ করে যারা এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন) এক প্রকার ‘স্থবির’ চাকরিতে আবদ্ধ ছিলেন। তাদের জন্য কোনো সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ বদলি নীতিমালা ছিল না। ফলে অনেক শিক্ষককেই পারিবারিক বা ব্যক্তিগত নানা অসুবিধার মধ্যেও দূর-দূরান্তের কর্মস্থলে থাকতে বাধ্য হতেন।
এই নতুন সফটওয়্যারটি মূলত সেই অচলায়তন ভাঙার প্রথম ও সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়িত হলে লক্ষ লক্ষ শিক্ষক তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
কারা থাকবেন এই সফটওয়্যারের আওতায়?
এই সফটওয়্যারটি প্রাথমিকভাবে বেসরকারি (এমপিওভুক্ত) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকদের জন্য ডিজাইন করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন:
- এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক: যারা বিভিন্ন গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেয়েছেন।
- সার্বজনীন (অন্যান্য) এমপিওভুক্ত শিক্ষক: যারা পূর্ববর্তী নিয়মে এমপিওভুক্ত হয়েছেন।
এই উদ্যোগের ফলে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বদলির সুযোগ-সুবিধার যে বিশাল বৈষম্য ছিল, তা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফটওয়্যারটি কীভাবে কাজ করবে?
যদিও সফটওয়্যারটি এখনও নির্মাণাধীন, তবে মাউশি ও এটুআই-এর আলোচনার ভিত্তিতে এর কার্যপ্রণালী সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে:
১. কেন্দ্রীয় ডেটাবেস: সফটওয়্যারটি দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের একটি রিয়েল-টাইম ডেটাবেস তৈরি করবে। ২. অনলাইন আবেদন: বদলি ইচ্ছুক শিক্ষকরা সরাসরি এই সফটওয়্যারে লগইন করে তাদের পছন্দ অনুযায়ী শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করতে পারবেন। ৩. স্বচ্ছ প্রক্রিয়া: পুরো বদলি প্রক্রিয়াটি হবে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয়। এতে বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ, তদবির বা সম্ভাব্য দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না বললেই চলে।
অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ
মাউশি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটুআই-এর প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে অধিদপ্তর পরিদর্শন করে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন। মাউশি এখন এটুআই-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনার (লিখিতভাবে সক্ষমতা জানানোর) অপেক্ষায় আছে। সেই প্রস্তাবনা পেলেই তাদের কার্যাদেশ দেওয়া হবে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে।
শেষ কথা
বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য একটি স্বচ্ছ বদলি প্রক্রিয়া চালু করা ছিল শিক্ষা খাতের একটি দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এই “সমন্বিত বদলি সফটওয়্যার” সেই দাবি পূরণের পথে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা শুধু শিক্ষকদের মনে স্বস্তিই আনবে না, বরং এটি শিক্ষা প্রশাসনে ডিজিটাল রূপান্তর ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও বড় ভূমিকা পালন করবে।