নির্বাচনের তফসিলের আগেই এমপিওভুক্তির দাবি নন-এমপিও শিক্ষকদের
দেশের হাজার হাজার নন-এমপিও (MPO – Monthly Pay Order) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লক্ষ লক্ষ শিক্ষক-কর্মচারী আবারও তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসানের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে সামনে রেখে, তারা সরকারের কাছে একটি জরুরি ও মানবিক আবেদন জানিয়েছেন তফসিল ঘোষণার আগেই যেন দেশের সকল যোগ্য নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হয়।
আজ (সোমবার) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে “নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন”-এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই জোর দাবি জানানো হয়।
মূল দাবি: তফসিলের আগেই এমপিও চাই
সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের নেতারা বলেন, বছরের পর বছর ধরে তারা বিনা বেতনে বা নামমাত্র বেতনে দেশের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। সরকার বিভিন্ন সময়ে এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিলেও, এখনো অসংখ্য যোগ্য প্রতিষ্ঠান এমপিও সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে, যার ফলে সেখানকার শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তাদের প্রধান ও একমাত্র দাবি হলো:
- আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বেই দেশের অবশিষ্ট সকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি) একযোগে এমপিওভুক্ত করতে হবে।
কেন তফসিলের আগে? (সময়সীমার গুরুত্ব)
শিক্ষক নেতারা তাদের দাবির স্বপক্ষে সময়সীমার ওপর জোর দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তারা আশঙ্কা করছেন:
- নীতিগত সিদ্ধান্তের বাধা: একবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেলে অন্তর্বর্তীকালীন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে এমপিওভুক্তির মতো বড় ধরনের নীতিগত ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব নাও হতে পারে।
- দীর্ঘসূত্রিতার আশঙ্কা: তফসিল ঘোষণার পর নতুন সরকার গঠন এবং তাদের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। এতে এমপিওভুক্তির বিষয়টি বছরের পর বছর ঝুলে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
- মানবিক দিক: দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে চাকরি করা শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষে আর অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।
সরকারের প্রতি আকুল আবেদন
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফেডারেশনের নেতারা বলেন, নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা দেশের বোঝা নয়, বরং সম্পদ। তারা সরকারকে এই বিশাল শিক্ষক সমাজকে আর অবহেলায় না রেখে, নির্বাচনের আগেই এমপিওভুক্তির ঘোষণা দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।
তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার তাদের এই মানবিক ও যৌক্তিক দাবিটি সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করবে এবং দ্রুততম সময়ে এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শেষ কথা
নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে এই দাবিটি পূরণের জন্য সরকারের ওপর একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হলো। হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর জীবন-জীবিকার প্রশ্ন জড়িত থাকায়, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।