এমপিও

বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবি: পে-কমিশনের সাথে বৈঠকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক প্রতিনিধিরা

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের দাবি ও বৈষম্যের অবসান চেয়ে এবার ১০ম জাতীয় বেতন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি রাজপথে তীব্র আন্দোলনের পর, এবার তারা তাদের আর্থিক দাবিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের সামনে তুলে ধরতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে বেতন কমিশনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল [প্রতিনিধি দলের নাম, যেমন: এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট বা সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন] এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য: বৈষম্য তুলে ধরা

এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন জাতীয় বেতন কাঠামোতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একটি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার জন্য কমিশনের কাছে জোরালো সুপারিশ পেশ করা।

শিক্ষক প্রতিনিধিরা কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন, কীভাবে একই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও একই দায়িত্ব পালন করেও তারা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের তুলনায় বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

কমিশনের কাছে পেশ করা প্রধান দাবিগুলো

যদিও বৈঠকের বিস্তারিত আলোচনা বা লিখিত প্রস্তাবনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, শিক্ষক প্রতিনিধিরা তাদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের মূল দাবিগুলোই কমিশনের কাছে তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো:

  1. পূর্ণাঙ্গ বাড়ি ভাড়া: বর্তমানে প্রাপ্ত ১,০০০ টাকার পরিবর্তে সরকারি শিক্ষকদের ন্যায় শতভাগ (১০০%) মূল বেতনের সমপরিমাণ বাড়ি ভাড়া ভাতার দাবি। (উল্লেখ্য, সরকার সম্প্রতি দুই ধাপে ১৫% দেওয়ার প্রস্তাব করলেও শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।)
  2. পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা: বর্তমানে প্রাপ্ত ২৫% এর পরিবর্তে সরকারি নিয়মে শতভাগ (১০০%) উৎসব ভাতা (ঈদ/পূজা বোনাস) প্রদানের দাবি।
  3. বর্ধিত চিকিৎসা ভাতা: বর্তমানে প্রাপ্ত ৫০০ টাকার পরিবর্তে ন্যূনতম ১,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণের দাবি।
  4. জাতীয়করণ (প্রেক্ষাপট): যদিও জাতীয়করণ পে-কমিশনের সরাসরি এখতিয়ারভুক্ত নয়, তবে শিক্ষকরা জাতীয়করণের যৌক্তিকতা এবং এর আর্থিক সংশ্লেষ তুলে ধরে থাকতে পারেন, যাতে বেতন কাঠামো নির্ধারণে এই দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের প্রতিফলন থাকে।
  5. সামগ্রিক বৈষম্য নিরসন: সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান অন্যান্য আর্থিক ও সুযোগ-সুবিধার বৈষম্যগুলো দূর করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দেওয়া।

কেন এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ?

১০ম জাতীয় বেতন কমিশন দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আগামী কয়েক বছরের বেতন-ভাতার রূপরেখা প্রণয়ন করবে। তাই, কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরা এবং যৌক্তিক দাবিগুলো পেশ করা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এই বৈঠকের মাধ্যমে শিক্ষকরা আশা করছেন, কমিশন তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিষয়টি সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করবে এবং তাদের সুপারিশমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য একটি সম্মানজনক ও বৈষম্যহীন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব রাখবে।

শেষ কথা

এমপিওভুক্ত শিক্ষক প্রতিনিধি দলের সাথে পে-কমিশনের এই বৈঠকটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এটি প্রমাণ করে যে, সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রেখেছে। এখন দেখার বিষয়, ১০ম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এই দাবিগুলোকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং তার ভিত্তিতে সরকার কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষকের ভবিষ্যৎ во многом (অনেকটা – largely) নির্ভর করছে এই কমিশনের সুপারিশের ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *