বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করছে মালিকপক্ষ!” – শিক্ষার্থীদের গুরুতর অভিযোগ
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যখন ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে আসার বাতাস বইছে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন ও উদ্বেগজনক এক চিত্র ফুটে উঠলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেন্দ্র করে। একদল শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মালিকপক্ষ শিক্ষার্থীদের “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করছে” এবং এই প্রবণতা জুলাই অভ্যুত্থানের পর আরও তীব্র হয়েছে।
আজ (রোববার) সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক “প্রেসমিট” (সংবাদ সম্মেলন) থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়।
শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগ কী?
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, যেখানে তাদের প্রধান অভিযোগগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
- মতপ্রকাশে বাধা: শিক্ষার্থীরা বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব সংস্কার হওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি। আপনারা দেখবেন, শিক্ষার্থীরা যেসব দাবির কথা বলতে চায়, তারা এখনো তা বলতে পারছে না।”
- মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ: তারা সরাসরি “মালিকপক্ষে”র বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকপক্ষ শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করেছে এবং এটি আরও তীব্রভাবে এখন চেষ্টা করছে।”
- সংস্কারের অভাব: দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে একটি বড় পরিবর্তন এলেও, তার ছোঁয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লাগেনি। যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও অধিকার চর্চার সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তা মালিকপক্ষের বাধার কারণে হচ্ছে না।
নিষ্ক্রিয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা? (ইউজিসি ও মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা)
শিক্ষার্থীরা কেবল মালিকপক্ষের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলেননি, তারা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তারা বলেন, “আপনারা দেখবেন যে, কয়েকদিন ধরে এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব সমস্যা ঘটছে, সেগুলো দেখার জন্য যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় রয়েছে, তারা কিন্তু এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না।”
শিক্ষার্থীদের মতে, এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করার সাহস পাচ্ছে এবং কোনো ধরনের জবাবদিহিতার তোয়াক্কা করছে না।
বিশ্লেষণ: কেন এই অভিযোগ?
জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডাকসু, রাকসু, চাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি ধারা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলছে মূলত ট্রাস্টি বোর্ড বা “মালিকপক্ষ” দ্বারা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক அமைப்பு (ছাত্র সংসদ) না থাকায়, কর্তৃপক্ষ খুব সহজেই শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি (যেমন: অতিরিক্ত ফি, শিক্ষার মান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা) দমন করতে পারে। শিক্ষার্থীদের এই সংবাদ সম্মেলন সেই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধেই একটি সোচ্চার প্রতিবাদ।
শেষ কথা
একদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়ন, অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ—দেশের উচ্চশিক্ষায় এই দ্বৈত চিত্র নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীরা এখন তাকিয়ে আছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) দিকে, তারা এই অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা।