স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো ও বিনা সুদে ঋণ: পে-কমিশনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ৫ দফা দাবি
দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও মেধা পাচার রোধের লক্ষ্যে “ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)”-এর পক্ষ থেকে ১০ম জাতীয় বেতন কমিশনের কাছে ৫ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
আজ (রোববার) সংগঠনের পক্ষ থেকে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়। এতে শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। শিক্ষকদের প্রধান দাবিটি হলো—প্রচলিত সরকারি বেতন কাঠামোর বাইরে গিয়ে তাদের জন্য একটি “স্বতন্ত্র, মর্যাদাপূর্ণ ও উচ্চতর বেতন স্কেল” প্রবর্তন করা।
কেন এই স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দাবি?
ইউট্যাবের স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরাই হলেন দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি। কিন্তু বর্তমান বেতন কাঠামোতে তাদের সেই মর্যাদা ও অবদানের যথাযথ প্রতিফলন ঘটছে না।
এর ফলে দুটি বড় সংকট তৈরি হচ্ছে: ১. মেধাবীরা অনাগ্রহী: দেশের মেধাবী তরুণরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে অনাগ্রহী হচ্ছেন। ২. মেধা পাচার: অনেক অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক আরও ভালো সুযোগের আশায় বিকল্প কর্মক্ষেত্রে বা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি উত্তরণের জন্যই একটি স্বতন্ত্র ও আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে, যা ন্যূনতম সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতনের সাথে তুলনাযোগ্য হবে।
শিক্ষকদের পেশ করা সুনির্দিষ্ট ৫ দফা দাবি
পে-কমিশনের কাছে পেশ করা স্মারকলিপিতে মোট ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়েছে:
১. স্বতন্ত্র বেতন স্কেল: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র, মর্যাদাপূর্ণ ও উচ্চতর বেতন স্কেল প্রবর্তন করতে হবে (যা ন্যূনতম সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাথে তুলনীয়)। ২. আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ভাতা: আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যুগোপযোগী গবেষণা ভাতা প্রদান করতে হবে। ৩. আন্তর্জাতিক সেমিনার ভাতা: গবেষণালব্ধ জ্ঞান বিতরণের জন্য শিক্ষকদেরকে বছরে অন্তত একটি আন্তর্জাতিক ও একটি জাতীয় কনফারেন্স/সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ ভাতা (টিএ/ডিএ) ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করতে হবে। ৪. গবেষণা প্রকাশনা প্রণোদনা: মানসম্মত আন্তর্জাতিক জার্নালে (যেমন: Scopus, Web of Science) গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য বিশেষ “গবেষণা প্রকাশনা প্রণোদনা ভাতা” চালু করতে হবে। ৫. আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা: অধ্যাপকদের জন্য বিনা সুদে গাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের ঋণ সুবিধা প্রদানসহ অন্যান্য আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
শেষ কথা
ইউট্যাব বিশ্বাস করে, এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে তা শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি করবে, মেধা পাচার রোধ করবে এবং শিক্ষকতায় মেধাবীদের আকৃষ্ট করবে। এর ফলে দেশের উচ্চশিক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং গবেষণার পরিসর বহুগুণ বাড়বে, যার সুফল দীর্ঘমেয়াদে পুরো জাতি ভোগ করবে।