বিশ্ববিদ্যালয়

৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য স্কলারশিপ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা স্থাপন: পাকিস্তানের একগুচ্ছ প্রস্তাব

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিশেষ করে শিক্ষাখাতে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ রবিবার (২৬ অক্টোবর) অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারের সাথে সাক্ষাৎ করে শিক্ষাখাতে সহযোগিতার একগুচ্ছ প্রস্তাব পেশ করেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধান প্রস্তাবগুলো কী কী?

শিক্ষা উপদেষ্টা ড. আবরারের সাথে বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো:

১. ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য স্কলারশিপ: পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের ৫০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য তাদের দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে স্কলারশিপ (বৃত্তি) প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা গ্রহণের একটি নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। ২. COMSATS বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা স্থাপন: পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, COMSATS University Islamabad (CUI)-এর একটি শাখা বাংলাদেশে স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব, কারণ এর মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা নিজ দেশেই একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবে। ৩. উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা: পাকিস্তানের আল্লামা ইকবাল উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। ৪. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সহায়তা: দুই দেশের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র অনুসন্ধানের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া: স্বাগত তবে পর্যালোচনার প্রয়োজন

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার পাকিস্তানের এই প্রস্তাবগুলোকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

তবে, এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আরও বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ড. আবরার বলেন:

  • আলোচনার ক্ষেত্র: এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সাথে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।
  • পারস্পরিক স্বার্থ: উভয় দেশের জন্য লাভজনক (mutually beneficial) হয় এমন ক্ষেত্রগুলোতেই সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপন করা হবে।
  • জ্ঞান বিনিময়: তিনি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গবেষক বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন, যাতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান সহজ হয়।

শেষ কথা

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসা শিক্ষাখাতে সহযোগিতার এই প্রস্তাবগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বিশেষ করে, ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য স্কলারশিপ এবং COMSATS বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা স্থাপনের প্রস্তাবটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে, এগুলো এখনো প্রাথমিক প্রস্তাবনার পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরই এই প্রস্তাবগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

যদি এই উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষা ও জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *