শিক্ষা

দাখিল পরীক্ষা ২০২৬: কেন্দ্র পরিদর্শনে শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, কঠোর নজরদারিতে প্রতিটি হল

সারাদেশে একযোগে চলমান ২০২৬ সালের দাখিল ও সমমান পরীক্ষা অত্যন্ত উৎসবমুখর এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে আজ ২৭ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই ঝটিকা পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়।

কেন্দ্র পরিদর্শনে কারা ছিলেন?

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (DIA) একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল রাজধানীর আশপাশের এবং ঢাকার বাইরের বেশ কিছু মাদ্রাসা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা পরীক্ষা হলের আসন বিন্যাস, প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় এবং পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের এক সদস্য জানান, “শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কঠোর নির্দেশ রয়েছে যে, পরীক্ষায় কোনো ধরনের শিথিলতা বা নকলের আশ্রয় নেওয়া যাবে না। আমরা কেন্দ্রগুলোতে সন্তোষজনক পরিবেশ পেয়েছি।”

১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও সিসিটিভি মনিটরিং

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো পরীক্ষা পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা।

  • সিসিটিভি ক্যামেরা: প্রতিটি বড় পরীক্ষা কেন্দ্রে এবার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা সরাসরি কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে।
  • ডিজিটাল ল্যাব ও ট্র্যাকিং: প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ২০২৬ ও ২০২৭ সালের সকল পাবলিক পরীক্ষায় বাধ্যতামূলক করা হবে।
  • ফ্রি ড্রেস ও কেডস: অনেক কেন্দ্রে দেখা গেছে সুবিধাবঞ্চিত পরীক্ষার্থীরা সরকারের দেওয়া নতুন স্কুল ড্রেস ও কেডস পরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করছে।

২০২৬ ও ২০২৭ সালের শিক্ষা সংস্কারের প্রভাব

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সাল থেকে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে এবারের পরীক্ষাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৬ ও ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র পদ্ধতি এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া

কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় অভিভাবকরা প্রশাসনের এই কড়াকড়িকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, কেন্দ্রের বাইরে ও ভেতরে কঠোর নিরাপত্তা থাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের যোগ্যতার সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে পারছে। বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো দাখিল পরীক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করবে।

উপসংহার: মেধা ও স্বচ্ছতার জয়জয়কার

দাখিল পরীক্ষা ২০২৬-এর এই সুষ্ঠু পরিবেশ প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একটি স্মার্ট ও আধুনিক কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই শিক্ষা সংস্কারের ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাও এখন মূলধারার শিক্ষার সাথে তাল মিলিয়ে চলার সুযোগ পাচ্ছে। সঠিক তদারকি ও তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আগামীর সকল পরীক্ষা আরও বেশি স্বচ্ছ হবে—এটাই এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *