ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ২০২৬: সেকেন্ড টাইম নিয়ে উপাচার্যের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ও নতুন সম্ভাবনা
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (DU) স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণের সুযোগ বা ‘সেকেন্ড টাইম’ (Second Time) থাকবে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল। আজ ২৭ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন এই বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিচ্ছুদের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপাচার্যের নতুন বার্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি
উপাচার্য ড. মো. কামাল উদ্দিন আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানান যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে চায়। তিনি বলেন, “একজন শিক্ষার্থী একবারের পরীক্ষায় অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তার সেরাটা দিতে না পারলে তাকে আরেকবার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আমরা গুরুত্বের সাথে ভাবছি।”
উপাচার্য আরও যোগ করেন যে, সেকেন্ড টাইম সুযোগ চালু করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও কারিগরি কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় এটি বিবেচনাযোগ্য। তবে এটি চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল এবং ভর্তি কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন সেকেন্ড টাইম সুযোগের দাবি জোরালো?
বিগত কয়েক বছর ধরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেকেন্ড টাইম সুযোগ চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে আন্দোলন করে আসছে। তাদের প্রধান যুক্তিগুলো হলো:
- মানসিক চাপ হ্রাস: একবারের পরীক্ষায় জীবন নির্ধারণী ফলাফলের চাপ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।
- মেধার মূল্যায়ন: অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী প্রথমবার অকৃতকার্য হলেও দ্বিতীয়বার কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে প্রমাণ করতে চায়।
- অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সামঞ্জস্য: গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড টাইম সুযোগ থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন অনেকে।
১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির সাথে সংগতি
সরকারের ঘোষিত শিক্ষা সংস্কারের ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো উচ্চশিক্ষায় বৈষম্য দূর করা এবং আধুনিক মানদণ্ড নিশ্চিত করা। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বারবার উল্লেখ করেছেন যে, উচ্চশিক্ষার দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের এই নতুন বার্তা মূলত সেই বড় ধরণের শিক্ষা সংস্কারেরই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ ও ২০২৭ সালের স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ার যে লক্ষ্য সরকার নিয়েছে, তাতে এই সিদ্ধান্তটি মাইলফলক হতে পারে।
ভর্তি পদ্ধতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন
উপাচার্য আভাস দিয়েছেন যে, যদি সেকেন্ড টাইম সুযোগ চালু করা হয়, তবে মেধা তালিকায় ভারসাম্য বজায় রাখতে কিছু নম্বর কর্তন (যেমন: ৫ নম্বর) বা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত যুক্ত করা হতে পারে। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং এবং ডিজিটাল ল্যাবের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র পদ্ধতি চালুর যে প্রক্রিয়া চলছে, তার সাথে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির তারিখও দ্রুত ঘোষণা করা হবে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া
উপাচার্যের এই ইতিবাচক বার্তায় সারাদেশের লক্ষাধিক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। অভিভাবকদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড টাইম সুযোগ থাকলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমবে এবং তারা আরও বেশি আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রস্তুতি নিতে পারবে।
উপসংহার: মেধা ও আস্থার নতুন দিগন্ত
পরিশেষে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. কামাল উদ্দিনের এই সাহসী ও সময়োপযোগী বার্তা উচ্চশিক্ষায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে, তবে প্রাথমিক এই সংকেত শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির গতি বাড়িয়ে দেবে। ২০২৬ ও ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হতে পারে।