শিক্ষা

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া বেতন নিয়ে মাউশির নতুন নির্দেশনা: বিল সাবমিটের বিশেষ সুযোগ

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য ভুলের কারণে আটকে থাকা বকেয়া বেতন পরিশোধের লক্ষে নতুন একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মাউশির ইএমআইএস (EMIS) সেল থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ হাজার ৩৭৯ জন শিক্ষকের বেতন ইএফটি (EFT) জটিলতার কারণে বকেয়া রয়েছে। এর আগে বিল সাবমিটের সুযোগ দেওয়া হলেও মাত্র ৬৬৫ জন শিক্ষক তা সম্পন্ন করেছিলেন। বাকি শিক্ষকদের সুবিধার্থে এখন পুনরায় এই সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনার মূল দিকসমূহ

  • বকেয়া মাস: ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত।
  • বিল সাবমিট পদ্ধতি: প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ইএমআইএস সিস্টেমে (EMIS Module) লগ-ইন করে বকেয়া মাসের বিলগুলো আলাদা আলাদাভাবে সাবমিট করতে হবে।
  • সময়সীমা: এবারের নির্দেশনায় কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা (Deadline) বেঁধে দেওয়া হয়নি। শিক্ষকরা যেকোনো সময় তাদের বকেয়া বিল সাবমিট করতে পারবেন।

কেন এই বকেয়া তৈরি হয়েছে?

ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটি-র মাধ্যমে বেতন পাঠানোর সময় অনেক শিক্ষকের তথ্যগত ভুল (যেমন- এনআইডি নম্বর, ব্যাংক একাউন্ট বা নামের বানান) ছিল। এর ফলে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানো সম্ভব হয়নি। বকেয়া পরিশোধের জন্য এই ভুলগুলো আগে সংশোধন করা বাধ্যতামূলক।

প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য নির্দেশাবলী (Action Plan)

মাউশির চিঠি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধানদের যা যা করতে হবে:

  1. তথ্য যাচাই: যেসব শিক্ষকের বেতন বকেয়া রয়েছে, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংক একাউন্ট নম্বর পুনরায় যাচাই করুন।
  2. আলাদা বিল: প্রতিটি মাসের বকেয়া বিলের জন্য ইএমআইএস সিস্টেমে আলাদা আলাদা এন্ট্রি দিতে হবে।
  3. সতর্কতা: ভুল তথ্য দিলে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য গোপন করলে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপরই বর্তাবে।

শিক্ষকদের করণীয়

যদি আপনার ২০২৪-২৫ সালের উল্লিখিত মাসগুলোর বেতন বকেয়া থেকে থাকে, তবে দ্রুত আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সাথে যোগাযোগ করুন এবং আপনার সঠিক তথ্য (NID ও ব্যাংক একাউন্ট) প্রদান করুন যাতে তিনি অনলাইনে আপনার বিলটি সাবমিট করতে পারেন।


FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১: বকেয়া বেতনের জন্য কি কোনো জরিমানা দিতে হবে? উত্তর: না। এটি আপনার প্রাপ্য বেতন, যা কারিগরি জটিলতায় আটকে ছিল। সঠিক বিল সাবমিট করলে কোনো কর্তন ছাড়াই সম্পূর্ণ টাকা পাবেন।

প্রশ্ন ২: ইএমআইএস সিস্টেমে লগ-ইন করতে না পারলে কী করব? উত্তর: এক্ষেত্রে দ্রুত সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস অথবা মাউশির ইএমআইএস সেলে যোগাযোগ করতে হবে।

প্রশ্ন ৩: কতদিন পর টাকা একাউন্টে জমা হবে? উত্তর: বিল সাবমিট করার পর মাউশি থেকে অনুমোদন পেলে পরবর্তী এমপিও চক্রের সাথেই বকেয়া টাকা ব্যাংক একাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।


উপসংহার: স্বস্তিতে বঞ্চিত শিক্ষকরা

দীর্ঘদিন ধরে ১,৩৭৯ জন শিক্ষক তাঁদের ন্যায্য বকেয়া বেতন থেকে বঞ্চিত ছিলেন। মাউশির এই নতুন নির্দেশনার ফলে এখন সময়সীমার ভয় ছাড়াই তারা তাদের পাওনা বুঝে নিতে পারবেন। ডিজিটাল সিস্টেমে তথ্য হালনাগাদ করার মাধ্যমে দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *