বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা ২০২৬: খাতা মূল্যায়নে নতুন নিয়ম

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষক এবং প্রধান পরীক্ষকদের জন্য নতুন একগুচ্ছ বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক চিঠিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিল এন্ট্রি এবং উত্তরপত্র প্রেরণের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মাবলী মেনে চলতে বলা হয়েছে।

মাউশি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইএমএস (EMS) সফটওয়্যার আপডেট করার প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে। প্রধান প্রধান নির্দেশনাবলী নিচে দেওয়া হলো:

প্রধান পরীক্ষকদের জন্য বিশেষ দায়িত্ব

চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধান পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও নিবিড় ভূমিকা পালন করতে হবে:

  • ১০ শতাংশ পুনর্মূল্যায়ন: প্রধান পরীক্ষক তাঁর অধীনে থাকা পরীক্ষকদের মূল্যায়ন করা উত্তরপত্র থেকে অন্তত ১০ শতাংশ খাতা পুনরায় মূল্যায়ন করবেন।
  • প্যাকিং ও প্রেরণ: মূল্যায়ন শেষে প্রতি ২০০টি খাতার ওএমআর (OMR) করোগেটেড কাগজে মুড়িয়ে প্যাকেট করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।
  • বিল এন্ট্রি: শুধুমাত্র প্রধান পরীক্ষকরাই সফটওয়্যারে প্রবেশ করে তাঁর এবং তাঁর অধীনে থাকা পরীক্ষক ও নিরীক্ষকদের (Scrutinizer) বিল দাখিল করতে পারবেন।

পরীক্ষক ও নিরীক্ষকদের জন্য সীমাবদ্ধতা

খাতা মূল্যায়নের মান বজায় রাখতে সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে:

  • নিরীক্ষক (Scrutinizer): একজন নিরীক্ষক সর্বোচ্চ ২,০০০টি উত্তরপত্র নিরীক্ষণ করতে পারবেন। নিরীক্ষককে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ের হতে হবে।
  • পরীক্ষক (Examiner): একজন পরীক্ষক সর্বোচ্চ ২৫০টি খাতার বিল প্রাপ্য হবেন।
  • দ্বৈত পদ নিষিদ্ধ: প্রধান পরীক্ষক একই পরীক্ষায় পরীক্ষক হতে পারবেন না।

ডিজিটাল বিল দাখিল প্রক্রিয়া

বিল জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতির চেয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে:

  • লগ-ইন: কলেজের নিবন্ধিত ই-মেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার করে নির্ধারিত সফটওয়্যারে (103.113.200.36/PAMS/CollegeLogin.aspx) প্রবেশ করতে হবে।
  • বিল ডাউনলোড: সকল তথ্য এন্ট্রি করার পর বিল ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিতে হবে। প্রধান পরীক্ষকের স্বাক্ষর ও সিলসহ সেই কপি ডাকযোগে বা সরাসরি ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অনার্স ৩য় বর্ষ শাখা) বরাবর পাঠাতে হবে।
  • সংশোধন: একবার ‘Confirm’ বা সাবমিট করার পর কোনো তথ্য আর পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না।

ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত নির্দেশনা

বিল পেমেন্ট সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে পাঠানোর জন্য:

  • প্রত্যেক পরীক্ষকের ১৩ সংখ্যার সচল সোনালী ব্যাংক হিসাব নম্বর থাকতে হবে।
  • তথ্য এন্ট্রির সময় ব্যাংক একাউন্ট নম্বর নির্ভুলভাবে দিতে হবে, নতুবা বিল পরিশোধে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১: বিল এন্ট্রিতে সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে? উত্তর: কারিগরি সহায়তার জন্য সহকারী পরিচালক (কম্পিউটার) দেবব্রত পালের (০১৭১৮৩৩৩০৩৯) সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

প্রশ্ন ২: প্রধান পরীক্ষক কি তার নিজের বিল নিজে এন্ট্রি করবেন? উত্তর: হ্যাঁ, প্রধান পরীক্ষক তাঁর নিজের এবং তাঁর অধীনে থাকা সকল পরীক্ষকের বিল সম্মিলিতভাবে এন্ট্রি করবেন।

প্রশ্ন ৩: কতদিন পর্যন্ত বিল এন্ট্রি করা যাবে? উত্তর: বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিল এন্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে, এরপর সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।


উপসংহার: উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতার অঙ্গীকার

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কঠোর নির্দেশনাগুলোর লক্ষ্য হলো পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে প্রকাশ করা। প্রধান পরীক্ষকদের ওপর বাড়তি তদারকির দায়িত্ব অর্পণ করায় উত্তরপত্র মূল্যায়নের মান বাড়বে এবং পরীক্ষার্থীদের অভিযোগের সুযোগ কমে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *