এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ইএফটিতে বেতন: প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য মাউশির নতুন ও কড়া নির্দেশনা
বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে (ইএফটি-র মাধ্যমে) পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মাউশির এক পত্রে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে শিক্ষকদের বেতন ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া তথ্যই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং যেকোনো ভুলের জন্য তাকেই ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকতে হবে।
মাউশির চিঠিতে উল্লিখিত প্রধান নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ইএফটি (EFT) বিলে দায়বদ্ধতা
মাউশি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ইএফটি মডিউলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার তথ্য ইনপুট দেওয়ার সময় কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুল তথ্য প্রদান করা হলে এবং এর ফলে কারো বেতন আটকে গেলে বা ভুলভাবে বিতরণ হলে তার পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর বর্তাবে।
- প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাখিল করা তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
- অনলাইনে বিল সাবমিট করার পর তার একটি কপি ডাউনলোড করে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির স্বাক্ষরসহ প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করতে হবে।
বেতন বন্ধ বা কর্তনের নির্দেশ
যদি কোনো শিক্ষক-কর্মচারী নিচে উল্লিখিত কারণে বেতন পাওয়ার যোগ্য না হন, তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বিল সাবমিট অপশনে তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে:
- মৃত্যুবরণ বা পদত্যাগ: কোনো শিক্ষক মারা গেলে বা পদত্যাগ করলে দ্রুত তার নাম বিল থেকে বাদ দিতে হবে।
- সাময়িক বরখাস্ত: আইনি বা প্রশাসনিক কারণে বরখাস্ত থাকলে বেতন বন্ধ রাখতে হবে।
- অনুমোদনহীন অনুপস্থিতি: বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকলে বিধি মোতাবেক আংশিক বা সম্পূর্ণ বেতন কর্তনের জন্য বিল সাবমিট অপশনে তা উল্লেখ করতে হবে।
বিল সাবমিটে সময়সীমা
প্রতি মাসে যথাসময়ে অনলাইনে বিল সাবমিট করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারো বেতন ইএফটিতে পাঠানো হবে না। মাউশি জানিয়েছে, ডিজিটাল সিস্টেমে দেরি করার কোনো সুযোগ নেই, তাই প্রতি মাসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠান প্রধানকে তাঁর আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইএমআইএস (EMIS) সিস্টেমে লগ-ইন করে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
তথ্য ভুল থাকলে করণীয়
যাদের তথ্যে ভুল রয়েছে বা যাদের আইডি ‘Valid’ নয়, তাদের তথ্য দ্রুত সংশোধন করতে হবে। তথ্য যাচাই শেষে সঠিক (Valid) হওয়ার পরেই তারা বিল সাবমিট অপশনে যুক্ত হবেন।
FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
প্রশ্ন ১: ইএফটি (EFT) সিস্টেমে বেতন পাওয়ার সুবিধা কী? উত্তর: এর মাধ্যমে বেতনের চেক ছাড়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। সরকারি আদেশ হওয়ার পর সরাসরি শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমা হয় এবং ব্যাংক থেকে কোনো চেক বই ব্যবহারের ঝামেলা থাকে না।
প্রশ্ন ২: প্রতিষ্ঠান প্রধান বিল সাবমিট না করলে কি শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করতে পারবেন? উত্তর: না। ইএমআইএস সিস্টেমটি এমনভাবে তৈরি যেখানে প্রতিষ্ঠান প্রধানের সুপারিশ বা বিল সাবমিট ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে বেতন পাওয়ার সুযোগ নেই।
প্রশ্ন ৩: বকেয়া বেতনের জন্য কি আলাদা বিল দেওয়া যাবে? উত্তর: হ্যাঁ, নতুন নির্দেশনায় ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত বকেয়া বিল সাবমিট করার জন্য আলাদা অপশন চালু করা হয়েছে।
উপসংহার: স্বচ্ছতার এক নতুন ধাপ
শিক্ষা প্রশাসনে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষে মাউশির এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর ফলে শিক্ষকদের বেতন প্রাপ্তিতে যেমন গতি আসবে, তেমনি আর্থিক অনিয়ম ও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে বেতন আটকে দেওয়ার প্রবণতাও হ্রাস পাবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উচিত অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতি মাসের বিল অনলাইনে সম্পন্ন করা।